
শেষ আপডেট: 17 April 2023 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও এক আট হাজারি শৃঙ্গের চুড়ো ছুঁলেন চন্দননগরের তরুণী পিয়ালী বসাক (Piyali Basak)। আজ, সোমবার সকাল ৮.৫০ মিনিটে পৃথিবীর দশম উচ্চতম শৃঙ্গ (৮০৯১ মিটার) এবং অন্যতম দুর্গম অন্নপূর্ণায় (Mount Annapurna) আরোহণ করলেন তিনি।
এদিন পিয়ালীর বোন তমালী বসাক জানিয়েছেন, নেপালের এজেন্সির থেকে তিনি খবর পেয়েছেন সফল সামিটের। পিয়ালীর কৃত্রিম অক্সিজেন না নিয়েই এই আরোহণের কথা ছিল, কিন্তু বিনা অক্সিজেনে চেষ্টা করেও তা সফল হয়নি। কারণ খারাপ আবহাওয়ার জন্য অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে বাধ্য হন তিনি।
গত ৯ মার্চ অন্নপূর্ণা ও মাকালু এই দুই পর্বত শৃঙ্গ অভিযানে বেরিয়েছিলেন চন্দননগরের এভারেস্টি পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক। অবশেষে অন্নপূর্ণা ছোঁয়ার স্বপ্ন সফল হল তাঁর। এর পরে মাকালুর দিকে তিনি এগোবেন কিনা, এখনও জানা যায়নি।
পিয়ালী ২০১৮ সালে পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলু সামিট করেন। এর পরে ২০২১ সালে সপ্তম উচ্চতম শৃঙ্গ ধৌলাগিরি শৃঙ্গও স্পর্শ করেন তিনি। ২০১৯ সালে এভারেস্টের কাছাকাছি গিয়েও ফিরতে হয়েছিল, খারাপ আবহাওয়ার জন্য। এর পরে ২০২২ সালের ২২ মে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে ওঠেন পিয়ালী। তার দু'দিন পরেই পৃথিবীর চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসেও স্পর্শ করেন। এর পরে তাঁর মুকুটে যোগ হল অন্নপূর্ণার পালকও।
চন্দনগরের তরুণী পিয়ালী বসাক (Piyali Basak) পেশায় স্কুলশিক্ষিকা, কানাইলাল প্রাথমিক স্কুলে চাকরি করেন তিনি। নেশায় পুরোদস্তুর পর্বতারোহী। সেই আরোহণের নেশাতেই একের পর এক শৃঙ্গে অভিযান চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। আর্থিক সমস্যা, সামাজিক বাধা– কোনও প্রতিকূলতাই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি ঘরে। বারবারই পাহাড়ের বুকে রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন, তাঁকে থামাতে পারেনি কোনও কিছুই। ২০০০ সালের ১ আগস্ট অমরনাথ যাত্রায় গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন ভয়াবহ জঙ্গিহানা। কেদারনাথে গিয়ে মেঘভাঙা বৃষ্টি, তুষারধস থেকে জীবন হাতে করে বেঁচে ফিরেছিলেন। আরও বহু তীর্থযাত্রীকেও বাঁচিয়েছিলেন সেই সঙ্গে। এইভাবেই যেন পাহাড়ের সঙ্গে আরও নিবিড় এক সম্পর্ক তৈরি করেছেন তিনি।
শুধু পাহাড় চড়াই নয়, খুব ভাল আঁকতেও পারেন তিনি। মার্শাল আর্টে ব্ল্যাকবেল্ট, দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। বরফে স্কি করারও দুরন্ত দক্ষতা, এ রাজ্যের প্রথম মহিলা স্কিয়ার তিনিই।
পিয়ালীর (Piyali Basak) পরিবারে অবশ্য আছে নানা সমস্যা। বাবা তপন বসাক অসুস্থ, তাঁকে নিয়ে প্রায়ই পিয়ালীকে দৌড়োদৌড়ি করতে হয় হাসপাতালে। বাড়ির দোকান-বাজার ও অন্যান্য কাজ সামলানোর দায়িত্বও তাঁরই। পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ঋণ হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা, আছে সেসব মেটানোর দায়ও। কিন্তু তার পরেও হাল ছাড়েননি পিয়ালী। ছেলেবেলায় সেই বইয়ে পড়া এভারেস্ট অভিযানকেই পাখির চোখ করেছিলেন। স্বপ্ন সত্যি করে ইতিহাস লেখার সে যাত্রা যেন সফল হয়েছে। তবে সেখানেই থামেননি পিয়ালী। একের পর এক চুড়ো ছোঁয়ার নেশায় তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য।
একদিকে ঋণের পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়চুড়ো! পিয়ালীর এভারেস্ট সামিট যেন টানটান স্নায়ুযুদ্ধ