
শেষ আপডেট: 13 February 2023 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: আমের গায়ে গোলাপি ঠমক। দামেও গৌরবের আঁচ। এমন তেমন নয়, কড়কড়ে আড়াই লক্ষ টাকা (2.5 lakh rupees) দিলে তবেই মিলবে এক কেজি আম। জাপান থেকে আনা হচ্ছে চারা। মালদহের বাগানে (Malda) এবার চাষ হবে জাপানের এই 'মিয়াজাকি' আম (miyazaki mango)।
জাপানের শহর মিয়াজাকিতে জন্মায় বলেই এই আমের এমন নাম। গড়ে এক-একটি আমের ওজন প্রায় ৩৫০ গ্রাম। ‘মিয়াজাকি’ চাষ করে আমের জেলায় নতুন ইতিহাস গড়তে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকারের কৃষি দফতর। মালদহের মাটিতে এই আমের ফলন হতে পারে, কৃষিবিজ্ঞানীদের কাছে সে ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত মিলতেই জাপানি এই আম চাষের খুঁটিনাটি শেখাতে মালদহের ৫০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষি দফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইংরেজবাজার ব্লকেই শুরু হবে এই আম চাষ। খুব শীঘ্রই জাপান থেকে আসছে চারা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ জন চাষির প্রত্যেককে একটি করে চারা দেওয়া হবে। সেই গাছ বৃদ্ধি পেলে সেখান থেকে কলম পদ্ধতিতে আরও চারা তৈরি করে জেলার চাষিদের মধ্যে বিলি করা হবে। এখন এই ৫০টি চারা আনার জন্য সমস্ত খরচ বহন করছে রাজ্য সরকার।
ইংলিশবাজারের সহকারি কৃষি উন্নয়ন আধিকারিক ডঃ সেফাউর রহমান জানান, ‘তাইয়ো-নো-টোমাগো’ বা ‘এগস অফ সানশাইন’ নামে ব্র্যান্ডিং করে বিশ্ববাজারে বিক্রি হয় ‘মিয়াজাকি’ আম। তাঁরা সবদিক খতিয়ে দেখেই মালদহে এই আম চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “প্রকল্পটি সফল হলে মালদহের আমচাষিরা রাজা হয়ে যাবেন। কারণ চড়া দামের আম বাংলার মানুষ না খেলেও বিশ্ববাজারে তা বিশাল দামে বিক্রি হবে।” তিনি জানান, ডাইনোসরের ডিমের মতো দেখতে এই আমে সুগারের পরিমাণ পনেরো শতাংশের মতো। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, বিটা-ক্যারোটিন এবং ফলিক অ্যাসিডে ভরা এই আম। চোখের জন্য ভালো, ক্যান্সারের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল দুইই কমায় এবং ত্বকের জন্যও উপকারী। এই আম চাষের জন্য দরকার দীর্ঘ সময়ের রোদ, উষ্ণ আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। মালদহে এমনই আবহাওয়া। তাই ‘মিয়াজাকি’ চাষে সাফল্য মিলবেই বলে আশাবাদী মালদহের কৃষিবিদরা।
মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের এক কৃষকের বাগান ইতিমধ্যেই সংবাদের শিরোনামে এসেছে। সেই বাগানে শোভা পাচ্ছে গোলাপি রঙের ‘মিয়াজাকি’ আম। মহার্ঘ দু’টো আম গাছ পাহারার জন্য সেখানে রয়েছে তিনজন নিরাপত্তারক্ষী ও ছ’টি কুকুর! আম চাষ করে ভাগ্য ফেরাতে তৈরি হচ্ছেন মালদহের চাষিরাও।
কলকাতায় চিকেন পক্সের দাপট বাড়ছে, নতুন বছরের শুরুতেই মৃত অন্তত ১২