শেষ আপডেট: 14 November 2021 14:02
শোনা যায়, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান দাতারাম সুরের মেয়ের বাড়ি গৌরহাটিতেই একসময় জগদ্ধাত্রী আরাধনা হত। তাঁদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় সেই পুজোই চলে আসে ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলায়। বাড়ির পুজো সার্বজনীন রূপ পায়।
'জয়জয়ন্তী'র সেই ছোট্ট লিলিই সুজয়প্রসাদের মা, চলে গেলেন সিনেমার ৫০তম বছরে
অনেককাল আগের কথা, সেসময় বাড়ির মেয়েরা পর্দানশীন ছিলেন। বাইরে বেরোতেও ভয় পেতেন। তাই বাইরে বেরিয়ে পুজোপার্বনে অংশ নেওয়া তো দূরের ব্যাপার। কিন্তু প্রতিমা বরণ তো মেয়েরাই করেন, সেই কাজ হবে কী করে? শেষমেশ বিসর্জনের আগে পুরুষরাই কাপড় পরে মহিলা সেজে দেবী বরণ করা শুরু করেন।
তবে একবিংশ শতকে মহিলারাই সমাজের চালিকা শক্তি। মহিলারাই দশভূজা হয়ে সবদিক সামলাচ্ছেন।তবু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা কিছু রীতি কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুগের দ্যোতক হয়ে বেঁচে থাকে। যেমন রয়ে গেছে তেঁতুলতলা বারোয়ারি পুজোয়।
চন্দননগরের পাশাপশি ভদ্রেশ্বরে ২২৯ বছর ধরে হয়ে আসছে সেই জগদ্ধাত্রী পুজো।তেঁতুলতলার দেবী জগদ্ধাত্রী নাকি এতই জাগ্রত, ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে তা পূরন হয়। তাই পুজো দিতে বছর বছর ঢল নামে ভক্তদের।
তবে করোনার পরিস্থিতিতে আগে মানুষকে , তারপর মা। মানুষই যে মায়ের সেবা করে। তাই পুজো উদ্যোক্তা জানান, করোনা বিধি মেনেই এবছর পুজোর আয়োজন। দশমীর বরণ শেষে বিসর্জন নয়, একাদশীর দিন সকাল দশটায় প্রতিমা বিসর্জন হবে। করোনার জন্য ছাগবলি ও দন্ডি খাটাও বন্ধ রাখা হয়েছিল এবছর।
তেঁতুলতলার পুজো যত পুরনো হচ্ছে ততই যেন গাঢ় হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'