
শেষ আপডেট: 17 August 2022 04:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: বারাসতের (Barasat) মনুয়া মজুমদার (Manua Majumdar)। কয়েকবছর আগে যার কীর্তি শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন সক্কলে। প্রেমিককে দিয়ে নিজের স্বামীকে খুন করিয়েছিল মনুয়া। শুধু তাই নয়, খুনের সময় স্বামীর আর্তনাদও শুনতে চেয়েছিল সে। তাতেই হয়েছিল তার তৃপ্তি।
অথচ সেই মনুয়াকে জেলের মধ্যে দেখে কে বলবে তার নামের সঙ্গে এত নৃশংসতা জড়িয়ে আছে? জেল যেন আদতেই তার কাছে ‘সংশোধনাগার’। সেখানে মনুয়া মজুমদার এখন হয়ে উঠেছে নাচের দিদিমণি। তার শেখানো নাচেই জেলের মধ্যেকার স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন হয়ে উঠেছে জমজমাট।
বারাসতের হৃদয়পুরের বাসিন্দা মনুয়া মজুমদার। প্রেমিককে দিয়ে নিজের স্বামীকে খুন করিয়েছিল সে। স্বামীর আর্তনাদ শোনার জন্য প্রেমিককে বলেছিল ফোন অন করে রাখতে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুর আগে স্বামীর আর্তনাদ ফোনে কান পেতে শুনেছিল মনুয়া। তার এই নৃশংসতার কথা জানাজানি হতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল চারদিকে।
সেই মনুয়া এখন আছে বর্ধমান সংশোধনাগারে (Burdwan Central Correctional Home)। কয়েদিদের নাচ শেখায় সে। আদ্যোপান্ত নৃত্যশিল্পী। জেলে তার নাচের দলও রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার দলের নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অতিথিরা।
শুধু নাচ নয়, গানের তালে তালে গলাও মেলায় মনুয়া। তবে এই নাচ-গানের বাইরে আরও কিছু করতে চায় সে। বরাবরের ইচ্ছে ছিল পিএইচডি করার। সম্প্রতি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে সেই ইচ্ছেও প্রকাশ করেছে সে। সব ঠিকঠাক থাকলে মনুয়ার পিএইচডি আটকায় কে!
সংশোধনাগারে অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করেছে মনুয়া মজুমদার। দোষের সাজা খাটতে খাটতেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সে। মনুয়ার এই পরিবর্তন অনেককে অনেক কিছু শেখাতে পারে, মন করছেন জেল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: সৎ বাবার লাগাতার ধর্ষণ! অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে নাবালিকা, আসানসোল কোর্টে দোষী সাব্যস্ত