দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন নতুন জীবন ফিরে পেলেন শেখ সিরাজুল। সৌজন্যে ফুলেশ্বরের সঞ্জীবন হাসপাতালের চিকিৎসকদের তৎপরতা। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ৪৬ বছর বয়সি সিরাজুলকে যখন সঞ্জীবন হাসপাতালে আনা হয়, তাঁর হাত-পা কার্যত অবশ হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছিল শ্বাস কষ্টও। নিজের পায়ে হাঁটা দূরের কথা, শরীরের কোনও অংশ নাড়াতেই পারছিলেন না তিনি।
পরীক্ষানিরীক্ষা করে অসুখ খুঁজে বার করতে বেশি দেরি করেননি চিকিৎসকরা। ডায়াগনসিস হয়, 'গুলেনবেরি সিনড্রোম' নামে নার্ভের এক মারাত্মক ও জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে চিকিৎসা করে সিরাজুলকে স্থিতিশীল করা হয় প্রথমে। তার পরে শুরু কার্যকর পদক্ষেপ।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গুলেনবেরি বা জিবি সিনড্রোম হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসনালী ক্রমশ অসাড় হয়ে যায়। দ্রত ব্যবস্থা না নিলে রোগীকে বাঁচানো মুশকিল।
সঞ্জীবনের নিউরোলজিস্ট ও তাঁর টিম রোগীকে স্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে নাগাড়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাব। শ্বাসযন্ত্র সাময়িক ভাবে অকেজো হয়ে যাওয়ায় লাইফ সাপোর্টও দরকার হয়েছিল। তবে সঠিক চিকিৎসায় দ্রত জীবন ফিরে পেলেন মধ্য চল্লিশের শেখ সিরাজুল।
স্বাভাবিক ভাবেই, কোভিড মহামারীর আবহে এই ধরনের জটিল সমস্যায় তৎপরতার সঙ্গে চিকিৎসা খুব সহজ নয়। তার উপর জিবি সিনড্রোমের চিকিৎসা অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ। কিন্তু সিরাজুলের সম্পূর্ণ চিকিৎসা হয়েছে নিখরচায়। কারণ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কাজে লাগিয়ে সঞ্জীবন থেকে ক্যাশলেসের সুবিধা পেয়েছেন তাঁরা।
শেখ সিরাজুল বলছেন, নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এই সমস্যায় আক্রান্ত বড় সংখ্যক রোগীকেই প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয় না বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেখানে শেখ সিরাজুল প্রাণে তো বেঁচেইছেন, তাঁর শরীর অনেকটাই ঠিক আছে এখন।