
শেষ আপডেট: 17 October 2023 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বাড়িতে ঢুকে শুঁড়ে তুলে এক ব্যক্তিকে আছাড় মারল দলছুট হাতি। তাতে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকে।
মঙ্গলবার সকালে ১ নম্বর আংড়াভাষা গ্রামপঞ্চায়েতের আপার কলাবাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়ে দলছুট একটি হাতি। বিভ্রান্ত হয়ে রাস্তা খুঁজে থাকে হাতিটি। এলাকায় শুরু করে তাণ্ডব। এলাকা জুড়ে দাপিয়ে বেড়ায় সে। ভয়ে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। এই সময় বাড়িতেই ছিলেন কুলবাহাদুর থাপা। বুনো হাতিটি তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। কুলবাহাদুরকে একা পেয়ে হাতিটি তাঁর উপর হামলা চালায়। পালাতে গিয়ে হাতিটি কুলবাহাদুরকে শুঁড়ে তুলে নেয়। এরপরে তাঁকে বাড়ির বাইরে নিয়ে এসে মাটিতে আছাড় মারে। এতেই মৃত্যু হয় কুলবাহাদুরের। গোটা এলাকার মানুষ হাতিটিকে পাল্টা তাড়া করলে জঙ্গলে ঢুকে যায় সেটি।
এই হামলার পর থেকে সন্ত্রস্ত এলাকার মানুষ। মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। পুলিশ ও বন্যপ্রাণ শাখার কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে তাঁদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়তে হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নেই। ডিএফও অফিসকে বার বার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।
গ্রামবাসী ভক্তবাহাদুর ছেত্রীর দাবি, ''গত কুড়ি দিনে বুনো হাতির হামলায় এনিয়ে তিনজন প্রাণ হারাল। হাতি গ্রামে ঢুকে পড়লে তাড়ানোর ব্যবস্থা করে না বনকর্মীরা। হাতির হামলায় তাঁরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। চাষবাসের ক্ষতি হচ্ছে। এই ধরণের ঘটনা ঘটলে বন আধিকারিকরা এসে শুধু সহানুভূতি দেখিয়ে যান। একটা চাকরি ও দু'লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে যান। এর থেকে বেশি কিছু আর হয় না। অনেক বছর ধরে এখানে ওয়াইল্ড লাইফ অফিস খোলার দাবি করে আসছি। কিন্তু বনবিভাগ সেবিষয়ে কিছু করছে না।''