দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসীম দাশগুপ্ত এবং অমিত মিত্রকে একই বন্ধনীতে ফেলেও বিজেপির অর্থনীতিবিদ বিধায়ক অশোক লাহিড়ি অকপটে স্বীকার করে নিলেন বাম জমানার চেয়ে তৃণমূল জমানায় কিছু উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রেস কর্ণারে অশোক লাহিড়ি যখন এ কথা বলেন তখন তাঁর পাশেই বসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বালুরঘাটের বিধায়কের এ হেন মন্তব্য নিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
কেন অস্বস্তি?
গত কয়েক বছর ধরেই নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা ধারাবাহিক ভাবে একথা বলে গিয়েছেন, কমিউনিস্ট জমানার থেকে মুক্তি পেতে বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু মমতা মানুষের সেই আস্থার মর্যাদা দেননি। অনেকেই এখন বলেন, তৃণমূল জমানার চেয়ে কমিউনিস্ট জমানা ভাল ছিল।
মোদী-শাহ এও বলতেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলার মানুষ কংগ্রেসকে জিতিয়েছেন। তারপর চৌত্রিশ বছর টানা বাম জমানা। ১০ বছর মমতার সরকারকেও দেখলেন। পাঁচটা বছর বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন, এই বন্ধ্যা বাংলাকেই সোনার বাংলা করা হবে। যদিও একুশের ভোটে রাজ্যের মানুষ সমস্ত কিছুকে প্রত্যাখ্যান করে 'বাংলার নিজের মেয়েকেই' আঁকড়ে ধরতে চেয়েছেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অন্তত মাস দুয়েক শুভেন্দুও ধারাবাহিক ভাবে বামেদের খ্যাতি করতেন। সব বক্তৃতায় বলতেন গীতা মুখোপাধ্যায়, গুরুদাস দাশগুপ্ত, সুকুমার সেনগুপ্তের মতো কিংবদন্তী কমিউনিস্টদের সম্পর্কে তাঁর শ্রদ্ধার কথা। ফলে তাঁর পাশে বসে অশোক লাহিড়ির এ হেন মন্তব্য যারপরনাই অস্বস্তি তৈরি করেছে গেরুয়া শিবিরে।
অনেকের মতে, অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রাজনীতির মূল আঙিনায় আনার এই হল মুশকিল। তাঁরা আগুপিছু না ভেবে আলটপকা মন্তব্য করে দেন। দায় নেন না। বিপাকে পড়তে হয় দলকে।
অশোক লাহিড়ির এ হেন ফুলটস বল মিস করেনি তৃণমূল। শিল্পমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বোধদয় হলে ভাল। রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে যা উন্নয়ন হয়েছে তা তো চোখে দেখা যাচ্ছে। যাক ওঁর বোধদয় হয়েছে!"
অনেকের মতে বঙ্গ জয়ের ব্যপারে বিজেপি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে অশোক লাহিড়িকে ভোটে দাঁড় করিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, বাংলায় সরকার হবে ধরে নিয়ে অশোক লাহিড়িকে অর্থমন্ত্রী করার জন্যই তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছিল।
এমনিতেই বাংলায় ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে। লাহিড়িবাবুর এ হেন মন্তব্য শুনে অনেকেই কৌতূহলী, তিনি তৃণমূলের উদ্দেশে বার্তা দিতে চাইলেন না তো?