
শেষ আপডেট: 3 April 2023 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সন্ধেয় রিষড়ায় রাম নবমীর মিছিলকে (Ram Navami procession) কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার হওয়ার পর অনেকেই এই প্রশ্নটা তুলেছিলেন। বাসন্তী পুজোর নবমীর দিন রাম নবমী পালিত হয়। চৈত্র মাসের নবরাত্রির নবমী তিথিতে গোটা দেশ এই পার্বণ পালন করে। সেই মতো গত বৃহস্পতিবার ছিল রাম নবমী। কিন্তু তার তিন দিন পর রবিবার রিষড়ায় (Rishra) কেন রাম নবমীর শোভাযাত্রা বের হল তা অবাক করেছে অনেককেই। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) সেই প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিন খেজুরির ঠাকুরনগর ময়দানে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ দিন ধরে কেন রাম নবমী পালিত হচ্ছে? ইচ্ছে করে সংখ্যালঘু এলাকায় ঢুকে পড়ছে। হাওড়ায় অনুমতি ছাড়া সংখ্যালঘু এলাকায় মিছিল নিয়ে ঢুকে পড়েছিল। ইচ্ছে করে ওটা করেছিল। রমজান মাসে সংখ্যালঘুরা ফল খায়। সেই ফলের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। বন্দুক নিয়ে নাচছে। রবিবার রিষড়াতেও একই ঘটনা ঘটেছে। বেছে বেছে এই সময়ে চক্রান্ত করে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।
হুগলি জেলা পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, রবিবার মাহেশের যে পর্যন্ত রাম নবমীর শোভাযাত্রা যাওয়ার কথা ছিল, তা পেরিয়ে সংখ্যালঘু এলাকায় ঢুকে পড়ে। তার পরই অশান্তি হয়। শুধু তা নয়, পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, হাওড়া এবং রিষড়ার ঘটনায় দুটি মিল দেখা যাচ্ছে। এই দুই জায়গাতেই অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে বলব, ৬ তারিখটা খুব সতর্ক থাকুন। ওরা (পড়ুন বিজেপি) আবার দাঙ্গা করার প্ল্যান করতে পারে। তা যাতে করতে না পারে সেটা আমাদের দেখতে হবে।’
৬ এপ্রিল হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে দেশজুড়ে। ওই দিন বজরংবলীর পুজো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘আমরা সবাই বজরংবলীকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু দাঙ্গাবাজি সমর্থন করি না।’’
এদিন হিন্দুদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি হিন্দু ভাই-বোনেদের অনুরোধ করব, ওরা সংখ্যালঘু। ওরা যাতে সুরক্ষিত থাকে সেটা আপনাদের দেখতে হবে।’
মমতা যখন খেজুরিতে বক্তৃতা করছেন ঠিক সেই সময়ে হুগলির কোন্নগরে ধুন্ধুমার শুরু হয়। রিষড়ায় উপদ্রুত এলাকায় দেখতে যাচ্ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মুজুমদারকে। তাঁর পথ আটকায় পুলিশ। তার পর বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তৃণমূলের বক্তব্য, হাওড়া ও রিষড়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি এখন অনাদির মোগলাই পরোটা বানাতে চাইছে। গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাধিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়াই ওদের লক্ষ্য।