শেষ আপডেট: 31 May 2020 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: লকডাউনে কাজ হারিয়েছিলেন আরও হাজার হাজার শ্রমিকের মতো। হাতে টাকা নেই, পেটে খাবার নেই। তার উপর টাকা পাঠাতে পারছিলেন না বাড়িতেও। ভেবেছিলেন এই দুঃসময় বাড়ির লোকেদের সঙ্গেই কাটাবেন। কিন্তু ট্রেনে করে রওনা দিতে পারলেও, বাড়ি ফেরা আর হল না। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সেই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই। শেষ দেখা হলো না বাড়িতে অপেক্ষারত স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের সঙ্গে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত শ্রমিক বুধুয়া পরিহারের বয়স ৪৮। তিনি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। রাজস্থানের বিকানের শহরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ২০ বছর ধরে। প্রথমে রাজস্থানের বিকানের শহরে একটি হোটেলে কাজ করতেন। কিন্তু সেখান থেকে কাজ চলে যাওয়ার পরে রাজস্থানের গ্রামে ঘুরে ঘুরে ডিম সংগ্রহ করে সেই ডিম বিক্রি করতেন। বছরে একবারই বাড়ি আসতে পারতেন তিনি । তাঁর পাঠানো টাকাতেই চলতো সংসার।
কিন্তু লকডাউন হওয়ার পর থেকেই কাজ বন্ধ। বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারছিলেন না এই দুঃসময়ে। এর পরে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালু হওয়ার পরই বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দেন। রাজস্থান থেকে গত শুক্রবার শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে চাপেন মালদা আসার জন্য।
জানা গেছে, তিনি কানপুর ও এলাহাবাদ স্টেশনের মাঝেই শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন ট্রেনের মধ্যে। মারাও যান কিছুক্ষণের মধ্যে।
হরিশ্চন্দ্রপুরের বাড়িতে বসে বুধুয়ার স্ত্রী শিখা পরিহার জানান, "গত শুক্রবার ট্রেনে ওঠার সময় ও আমাকে ফোন করেছিল। বলল খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে। বিকানের শহরে ডিম বিক্রির পাশাপাশি রাতে পাহারা দেওয়ার কাজও করত ও। এই কাজ করে মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাত। বছরে একবার মাত্র বাড়ি আসতে পারত। সহ-যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি ও মারা গিয়েছে। এখন কীভাবে কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।" মৃত বুধুয়া পরিহারের ছেলে সুজন পরিহার জানান, "গত শনিবার বাড়ি আসার জন্য ট্রেনে চেপেছিলেন বাবা। কিন্তু পথেই মারা যান শুনলাম। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়াক। বাবার দেহ মালদা মেডিক্যাল হাসপাতালে রাখা আছে। সেখানে লালারস পরীক্ষার হওয়ার পরে পোস্টমর্টেম হবে। আমার বাবার শেষ কাজকর্ম যেন হরিশ্চন্দ্রপুরে হয়, এটাই আমাদের এখন একমাত্র প্রার্থনা সরকারের কাছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র দাস জানান, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন বুধুয়া পরিহার। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে রাজস্থান থেকে বিভিন্ন রকম কাজ করে সংসারে টাকা পাঠাত। আমরা শুনেছিলাম উনি বিশেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন। তারপর জানা গেছে উনি অসুস্থ হয়ে ট্রেনে মারা গিয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই অকালমৃত্যু, জানা যায়নি।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু জানিয়েছেন, "খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওঁর দেহ এখন মালদা মেডিক্যাল কলেজে রাখা আছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"