Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু ট্রেনে, রাজস্থান থেকে আর ফেরা হল না মালদায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: লকডাউনে কাজ হারিয়েছিলেন আরও হাজার হাজার শ্রমিকের মতো। হাতে টাকা নেই, পেটে খাবার নেই। তার উপর টাকা পাঠাতে পারছিলেন না বাড়িতেও। ভেবেছিলেন এই দুঃসময় বাড়ির লোকেদের সঙ্গেই কাটাবেন। কিন্তু ট্রেনে করে রওনা দিতে পারলেও, ব

বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু ট্রেনে, রাজস্থান থেকে আর ফেরা হল না মালদায়

শেষ আপডেট: 31 May 2020 14:44

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: লকডাউনে কাজ হারিয়েছিলেন আরও হাজার হাজার শ্রমিকের মতো। হাতে টাকা নেই, পেটে খাবার নেই। তার উপর টাকা পাঠাতে পারছিলেন না বাড়িতেও। ভেবেছিলেন এই দুঃসময় বাড়ির লোকেদের সঙ্গেই কাটাবেন। কিন্তু ট্রেনে করে রওনা দিতে পারলেও, বাড়ি ফেরা আর হল না। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সেই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই। শেষ দেখা হলো না বাড়িতে অপেক্ষারত স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের সঙ্গে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত শ্রমিক বুধুয়া পরিহারের বয়স ৪৮। তিনি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। রাজস্থানের বিকানের শহরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ২০ বছর ধরে। প্রথমে রাজস্থানের বিকানের শহরে একটি হোটেলে কাজ করতেন। কিন্তু সেখান থেকে কাজ চলে যাওয়ার পরে রাজস্থানের গ্রামে ঘুরে ঘুরে ডিম সংগ্রহ করে সেই ডিম বিক্রি করতেন। বছরে একবারই বাড়ি আসতে পারতেন তিনি । তাঁর পাঠানো টাকাতেই চলতো সংসার।

কিন্তু লকডাউন হওয়ার পর থেকেই কাজ বন্ধ। বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারছিলেন না এই দুঃসময়ে। এর পরে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালু হওয়ার পরই বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দেন। রাজস্থান থেকে গত শুক্রবার শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে চাপেন মালদা আসার জন্য।

জানা গেছে, তিনি কানপুর ও এলাহাবাদ স্টেশনের মাঝেই শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন ট্রেনের মধ্যে। মারাও যান কিছুক্ষণের মধ্যে।

হরিশ্চন্দ্রপুরের বাড়িতে বসে বুধুয়ার স্ত্রী শিখা পরিহার জানান, "গত শুক্রবার ট্রেনে ওঠার সময় ও আমাকে ফোন করেছিল। বলল খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে। বিকানের শহরে ডিম বিক্রির পাশাপাশি রাতে পাহারা দেওয়ার কাজও করত ও। এই কাজ করে মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাত। বছরে একবার মাত্র বাড়ি আসতে পারত।  সহ-যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি ও মারা গিয়েছে। এখন কীভাবে কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।" মৃত বুধুয়া পরিহারের ছেলে সুজন পরিহার জানান, "গত শনিবার বাড়ি আসার জন্য ট্রেনে চেপেছিলেন বাবা। কিন্তু পথেই মারা যান শুনলাম। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়াক। বাবার দেহ মালদা মেডিক্যাল হাসপাতালে রাখা আছে। সেখানে লালারস পরীক্ষার হওয়ার পরে পোস্টমর্টেম হবে। আমার বাবার শেষ কাজকর্ম যেন হরিশ্চন্দ্রপুরে হয়, এটাই আমাদের এখন একমাত্র প্রার্থনা সরকারের কাছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র দাস জানান, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন বুধুয়া পরিহার। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে রাজস্থান থেকে বিভিন্ন রকম কাজ করে সংসারে টাকা পাঠাত। আমরা শুনেছিলাম উনি বিশেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন। তারপর জানা গেছে উনি অসুস্থ হয়ে ট্রেনে মারা গিয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই অকালমৃত্যু, জানা যায়নি।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু জানিয়েছেন, "খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওঁর দেহ এখন মালদা মেডিক্যাল কলেজে রাখা আছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"


```