
শেষ আপডেট: 22 June 2022 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভের মাঝেই উঠল আরেক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ। এবার নিয়োগ নিয়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনে (Madrasah Service Commission) বিরুদ্ধে পথে নামলেন চাকরি প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কমিশন কোনভাবেই তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শূন্যপদে (Vacancy) অবিলম্বে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, মাদ্রাসায় শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য ২০১৩ সালে পরীক্ষা নেয় কমিশন (MSC)। তার পর নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে যায়। লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ ইত্যাদি নেওয়ার পরেও প্রায় ১৫০০ শূন্যপদে নিয়োগ করা হয়নি। ২০১৩ সালের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় মাদ্রাসায় ৩,১৮৩টি শূন্যপদ রয়েছে। সেইমত শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া।
তবে ২০১৮ সালে জানা যায় ১৯০০ প্রার্থীকে সুপারিশ করে কমিশন। তার মধ্যে থেকে ১৫০০ প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি পদ এখনও শূন্য। পাশ করার পরেও নিয়োগ হয়নি। কিন্তু কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই লাগাতার ৫ বছর ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা। কখনও শহিদ মিনার, কখনও হাজরা, কালীঘাট, বিকাশ ভবনের সামনেও ধর্না-বিক্ষোভে বসেছেন তাঁরা। যদিও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ চাকরি প্রার্থীদের।
তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বাকি শূন্যপদে নিয়োগ করতে হবে। নির্দিষ্ট প্যানেল প্রকাশ করতে হবে। শুধু তাই নয়, নিয়োগের মাপকাঠি হিসেবে গ্যাজেট ও মেরিটকে মান্যতা দিতে হবে। গ্যাজেট অনুযায়ী, বি এড প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ করতে হবে।

এই নিয়োগ নিতে আন্দোলনকারীরা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টের তরফে ১৯০ জনকে কনসিডার করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, আদলতের নির্দেশের পরেও সেই কাজ এক চুল এগোয়নি।
চাকরি প্রার্থীরা তাঁদের দাবি নিয়ে আজ অর্থাৎ ২২ জুন থেকে বিকাশ ভবনের পাশে অবস্থানে (Protest) বসেছেন। তাঁদের দাবি মানা না পর্যন্ত এই অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের কথায়, "আমরা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু বঞ্চিত চাকরি প্রার্থী। নিয়োগ আমাদের অধিকার। আমরা তা অর্জন করবই।"