দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু'বছর স্টেজের কাছাকাছি অনুগামীদের নিয়ে বাবু হয়ে বসে শুনেছিলেন সকলের বক্তৃতা। বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি আর নীল সানগ্লাস। তাঁকে পেয়ে সেলফি তোলারও হিড়িক পড়ে গিয়েছিল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এসেছে, তাও তিনি জায়গা ছেড়ে নড়েননি। ভিজে ভিজে শুনেছেন দিদির বক্তৃতা। কিন্তু সেই মদন মিত্রকে এ বার দেখা গেল না একুশের মঞ্চের আশেপাশে।
হলটা কী মদনের?
প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "মিছিলে গেছিলাম। তবে শরীরটা খারাপ লাগল, তাই বাড়ি ফিরে এলাম। মঞ্চ পর্যন্ত যাইনি।"
এমনিতেই রবিবার হাঁসফাঁস করা গরম ছিল ধর্মতলায়। দূরদূরান্ত থেকে দিদির বক্তৃতার টানে এসেও অনেকেই মাঝপথে উঠে চলে যান। অনেকের মতে, হয়তো গরমের কারণেই মদনবাবুর শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কর্মীদেরই গলদঘর্ম অবস্থা আর মদনের তো কত বয়স!
যদি রাজনৈতিক মহলের অনেকেই একুশের মঞ্চে বা কাছকাছি মদনের অনুপস্থিতি নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেরই প্রশ্ন, দিদির সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে ভবানীপুরের এই প্রভাবশালী নেতার?
মাস দেড়েক আগে ফেসবুক লাইভে এসে মদন মিত্র বলেছিলেন, “আমি এখন একটা চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি।” সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নাম করে মদন বলেছিলেন, “অনেকের নাম থাকলেও, আমাকেই শুধু সিবিআই বলির পাঁঠা করেছে।”
মমতা সরকারের কারা দফতরকেও সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মদন। বলেছিলেন, “মাওবাদী ছত্রধর মাহাতোকে প্যারলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমায় দেওয়া হয়নি। আমি তৎকালীন কারামন্ত্রী হায়দার আজিজ সফিকে ৪৩টি আবেদন করেছিলাম। সবগুলো চেপে দেওয়া হয়েছিল।” সব দেখে অনেকেই বলছেন, কোথাও একটা তাল কেটেছে।
এর মধ্যেই আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৪ জুলাই নিজের বাড়িতে 'রামকথা'র আয়োজন করেছেন। নেমন্তন্নও প্রায় সারা হয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার ঠাট্টা করে এ-ও বলছেন, "রামকথা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হয়তো আসতে পারেননি।"
তবে কৌতূহল অনেকেরই, মদন এলেন না কেন?