কারও থেকে জ্ঞান নেব না নন্দীগ্রাম আন্দোলন কে করেছে, তেখালিতে মমতার বক্তৃতার লাইভ হাইলাইটস
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে বক্তৃতা দিলেন। কী বললেন তিনি, দেখুন হাইলাইটস।
আমার শহিদ পরিবারের সকল সদস্য এবং নিঁখোজ পরিবারের ভারত মণ্ডল, বিশ্বজিৎ মাইতি, উত্তম দাস, বাদল মণ্ডল, বাসন্তী কর... প্রমুখ উপস্থিত রয়েছে
শেষ আপডেট: 18 January 2021 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে বক্তৃতা দিলেন। কী বললেন তিনি, দেখুন হাইলাইটস।
-
আমার শহিদ পরিবারের সকল সদস্য এবং নিঁখোজ পরিবারের ভারত মণ্ডল, বিশ্বজিৎ মাইতি, উত্তম দাস, বাদল মণ্ডল, বাসন্তী কর... প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।
-
মেদিনীপুর পূর্ব জেলায় অর্ধেন্দু মাইতি থেকে শুরু করে সুকুমার দে, জ্যোতির্ময় কর, সংগ্রাম দলুই সকলেই উপস্থিত রয়েছেন।
-
আমাদের এখানে অনেকেই উপস্থিত রয়েছেন, আবু তাহের, মানস ভুইঞাঁ, দীপক অধিকারী... দেব তো আসেনি! অজিত মাইতি, দীনেন রায়, শ্রীকান্ত মাহাত, প্রদ্যুৎ ঘোষ, দুই মেদিনীপুরের সভাধিপতি রয়েছেন।
-
এই জায়গাটার নাম তেখালি। মনে আছে এই তেখালিতে কত ঘটনা ঘটেছে। তেখালি ব্রিজের সামনে গুলি চলল। আমার গাড়িতে দু তিনটে বুলেট এসে লাগল। বলল, তোমরা ফিরে যাও। আমরা বললান, ফিরে যাব না।
-
একটু মনে করিয়ে দিই। অনেকে বড় বড় কথা বলে। কিন্তু আন্দোলন শুরু হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। আমি তখন রাস্তায় বসে আন্দোলন করছি। তাপসী মালিককে লক্ষ্ণী পুজোর পরের দিন পুড়িয়ে মারা হল। তার পর এখানে আন্দোলন হল ৭ জানুয়ারি। নয়াচরে জমি নেওয়া যাবে না। ১৪ মার্চ গুলি চলল।
-
আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। তার ফলে কেন্দ্রের সরকার বলতে বাধ্য হয়েছিল, জোর করে জমি নেওয়া যাবে না।
-
আজও বলি, ১৪ মার্চ ২৬ দিন অনশন করার পর শরীর ভেঙে পড়ে। দুটো অপারেশন করতে হয়। নার্সিং থেকে বেরিয়ে শুনি এখানে গুলি চলেছে।
-
সন্ধের সময় যখন কোলাঘাটের কাছে এলাম আমার গাড়ি ঘিরে ধরে হুমকি দিচ্ছে পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে। গায়ে থুতু দিচ্ছে। বলছে আমাকে জ্বালিয়ে দেবে।
-
তৎকালীন রাজ্যপাল আমাকে ফোন করে বলেন, মমতাজি ফিরে আসুন। আপনাকে মারার প্রস্তুতি চলছে। আমি বললাম, ফেরত যাওয়ার জন্য আসেননি। রাত তখন দুটো বাজে। কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ারের গেস্ট হাউজে একটা রুম বুক করা ছিল। দেখি বাস দাঁড় করিয়ে গেট বন্ধ করে রেখেছে।
-
আমরা বাস টপকিয়ে কোলাঘাটের গেস্ট হাউজে পৌঁছই।
-
পরদিন ফের নন্দীগ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিছুতেই ঢুকতে দেব না। আমি তখন কী করলাম। সেই ছেলেটাকে আজও জেলে আটকে রেখেছে। আনিসুর নাম। বললাম, তোর বাইক নিয়ে আয়। গ্রাম গঞ্জের ভিতর দিয়ে তমলুক হাসপাতাল পর্যন্ত আসতে পারলাম।
-
শেষমেশ নন্দীগ্রামে ঢুকতে পেরেছিলাম। তখন কাউকে দেখতে পারিনি। মনে আছে আবু সুফিয়ান, তাহের, স্বদেশবাবুরা মিলে এই আন্দোলন করেছে।
-
কালীপুজোর দিন আমার বাড়িতে পুজো হয়, আমি বাড়ি যাইনি, নন্দীগ্রামে গুলি চলছে আমি তৃণমূল ভবনে বসে আছি। আর আবু সুফিয়ানরা আমাকে ফোন করে বলছে, দিদি গুলির শব্দ শুনতে পারছেন, আর আমার বুক ধড়াস ধড়াস করছে।
-
কারও কাছে জ্ঞান নেব না নন্দীগ্রাম আন্দোলন কে করেছে, আর কারা করেছে?
-
নন্দীগ্রামে কোথায় হ্যালেঞ্চা বড়া পাওয়া যায় আমি চিনি। আবু সুফিয়ানের বাড়িও চিনি। হাসপাতাল চিনি, কলেজ চিনি। নন্দী মা নিয়ে আমার বই হয়েছে।
-
আমি জানি নন্দীগ্রামের মানুষের অনেক দিনের দাবি রয়েছে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে একটা ব্রিজ করার। আগামী দিনে হবে।
-
নন্দীগ্রাম হচ্ছে স্যালুটের জায়গা। সারা ভারতে কৃষি আন্দোলন চলছে। সেটাকে আমরা সমর্থন করছি। কারণ, নন্দীগ্রামে যেমন জমি দখল করার চেষ্টা হয়েছিল, এখন বিজেপি ফসল দখল করার চেষ্টা করছে।
-
কেউ কেউ ইধার উধার করছে, অত চিন্তা করবেন না। তার কারণ, ওদের লড়ব তো আমি নয়, ওদের সঙ্গে সুপ্রকাশ গিরির মতো নেতারাই লড়বে। ছাত্র পরিষদ লড়বে, আমার বঙ্গজননীরা লড়বে। আগে তো সুপ্রকাশ গিরিকে লড়ো তার পর বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে লড়বে।
-
তৃণমূলের যখন জন্ম হয়েছিল, এই সিট থেকে লড়াই করেছিলেন অখিল গিরি। কেউ না কেউ যেতে পারে, তোমাদের স্বাধীনতা। আমরা বলি ভালই করেছ।
-
রাজনীতিতে তিন ধরনের লোক হয়। একদলকে আমরা বলি লোভী, আরেক দল হল ভোগী, আরেক দল হল ত্যাগী। যারা ত্যাগ করতে জানে, তাদের হাজার মেরে ফেলুন, এক ইঞ্চি মায়ের কোল ছাড়বে না। আরেক দল আছে যাদের অনেক সম্পত্তি, প্রচুর টাকা, টাকাগুলো হয়েছে ঢাকা, সেই টাকাগুলো কোথায় রাখবে, সেই টাকাগুলো রক্ষা করার জন্য আজ বড় বড় কথা।
-
বিজেপি নেতারা দিল্লি থেকে বলছে, হয় জেলে নয় ঘরে। তৃণমূল করলে তোমায় জেলে ভরব। বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। ওয়াশিং পাউডার ভাজপা, ওয়াশিং পাউডার ভাজপা।
-
নন্দীগ্রামের মানুষ জানেন না দীঘা পর্যন্ত রেললাইন করেছে? নতুন দীঘা কে করেছে? দীঘায় কনভেনশন হল কে করেছে?
-
চণ্ডীপুর, নন্দকুমার ব্লকে ৭০ হাজার পরিবারকে পানীয় জল পৌঁছে দিতে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রূপায়ণ হচ্ছে। ১২ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে।
-
আরেকটা কথা আমি বলি, নন্দীগ্রামে নিঁখোজ পরিবারগুলিকে মাসে ১ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়ার চেষ্টা করব আগামী দিনে।