দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের পর রাজ্য বিধানসভার প্রথম অধিবেশন বসছে ২ জুলাই, শুক্রবার। অধিবেশনের আগে প্রথামাফিক সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ একটু পরে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা।
বিধানসভার আসন্ন এই অধিবেশনে দলীয় প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের নানা কারণে অনেক নজির তৈরি হতে পারে। তার একটি হতে চলেছে বিধানসভায় আজকের সর্বদলীয় বৈঠকটিও। স্বাধীনতার পর বিধানসভায় একটিই নজির আছে যে সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করারই কেউ নেই।
সত্তরের দশকের গোড়ায় নির্বাচনী কারচুপি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে বামদলগুলি বিধানসভা বয়কট করেছিল। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাম-কংগ্রেস শিবিরের একজনও এবার ভোটে জেতেননি। নানা কারণে সর্বদলীয় বৈঠক বয়কটের অনেক নজির আছে। কিন্তু নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণে বিধানসভায় দলকে প্রতিনিধিত্ব করারই কেউ নেই, কংগ্রেস ও বাম দলগুলির ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি।
আবার বৈঠকে সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সোমবার তিনি নিজেই অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, আমার সঙ্গে বিধানসভার সচিবালয় থেকে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা হয়নি।
নওশাদের অভিযোগ সম্পর্কে বিধানসভার স্পিকার বা তাঁর অফিসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কেন তিনি ডান পাননি, তা নিয়ে নওশাদের বক্তব্য, ‘আমি আমার বিধানসভা কেন্দ্র ভাঙড়ে ঢুকতে পারছি না। তৃণমূল আমাকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। সর্বদলীয় বৈঠকে আমি এই সব বিষয়ে সরব হতাম। হয়তো সেটা আঁচ করেই আমাকে ডাকা হয়নি।’
বিধানসভা ভোটে এবার বাম-কংগ্রেস ও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট জোট করে লড়াই করে। তাতে একমাত্র নওশাদই জিতেছেন। ফলে বিধানসভায় তিনি বাম-কংগ্রেসরও প্রতিনিধি।