
শেষ আপডেট: 9 July 2021 12:45
‘কুমোরটুলি প্রগতিশীল মৃৎশিল্পী ও সাজশিল্পী সমিতি’র সম্পাদক অমল পাল বলেছেন, ‘বহু শিল্পী ও কারিগরদের এখনও টিকাকরণ হয়নি। চাহিদার তুলনায় টিকা কম আসছে বলেই হয়তো এই সমস্যা। টিকাকরণ ছাড়া প্রতিমা তৈরির কাজ একসঙ্গে করতে ভরসা পাচ্ছেন না অনেকেই। আমরা এখনও যাঁরা টিকা পাইনি তাঁদের কথা ভাবা দরকার।’
প্রতিমাশিল্পী মিন্টু পালের কথায়, ‘আমার কাছে ৩০ জন ভিন জেলার কারিগর কাজ করতে আসতেন। এবছর টিকাকরণ না হওয়ায় মাত্র ১৫ জন কারিগর কাজে এসেছেন। আমরা টিকা না নিয়ে কাজে আসতে বারণ করছি। কিন্তু টিকাকরণের ধারাবাহিকতা সেভাবে না থাকায় টিকা নিতে পারছেন না অনেকেই।’ তাঁর বক্তব্য, ‘পুজোর বাদ্যি বাজতে শুরু করেছে। দ্রুত শিল্পীদের টিকা দেওয়া প্রয়োজন।’
৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মিতালি সাহা বিষয়টিতে বলেছেন, ‘এখন ১৮ ঊর্ধ্বদের ভ্যাকসিন অপ্রতুল। তবে মোহিতমঞ্চ এবং স্টার থিয়েটারে নিয়মিত টিকাকরণ হচ্ছে। সেখানে মৃৎশিল্পী বা কারিগররা এলে, তাঁদেরও টিকা দেওয়া হবে। যদিও এখন দ্বিতীয় ডোজই বেশি হচ্ছে। তবে কুমোররটুলির শিল্পীদের আলাদা করে একসঙ্গে টিকাকরণ করানো যায় কী না, সে বিষয়ে কলকাতা পুরসভায় কথা বলব।’
৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ পাল বিষয়টিতে বলেন, ‘কুমোরটুলির একটা অংশ এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এখন প্রবীণদের টিকাকরণ চলছে। তবে তা মূলত দ্বিতীয় ডোজ। প্রথম ডোজ এলেই বলে দেওয়া হবে।
কুমোরটুলির এক একটি ছোট স্টুডিওতে দশ বারো জন কাজ করেন। সেখানেই থাকা-খাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই গা ঘেঁষাঘেঁষি হয়। আর মাস্ক পরে কাজ করা খুবই কষ্টকর। তাই সংক্রমণের ভয় নিয়েই দিন কাটছে শিল্পীদের।
অন্যদিকে কুমারটুলি ফিরতে চাইছেন না ভিন জেলার কারিগররাও। ফলে কিছুটা থমকে রয়েছে কুমারটুলির প্রতিমা তৈরির কাজ। চলতি বছর আধা–লকডাউনের আগে যারা বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগ কারিগরই এখনও কুমারটুলিমুখো হননি। অনেকেই প্রতিমা গড়ার কাজে ইতি টেনে খুঁজে নিয়েছেন বিকল্প আয়ের রাস্তা। পুজোর আর বেশিদিন নেই। যৎসামান্য হলেও, প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু দেখা নেই অন্য জেলার কারিগরদের। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, সংক্রমনের ভয়েই ফিরছেন না ওই কারিগররা।
প্রতি বছরই পুজোর আগে কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসেন প্রায় হাজারখানেক কারিগর। কুমোরপাড়ার ছোট্ট পরিসরেই কয়েক মাস থেকে-খেয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ উতরে দেন তাঁরা। কিন্তু গত বছরের মতো এবছরও কুমোরটুলিতে আসার বিশেষ উৎসাহ নেই ওই সব কারিগরদের মধ্যে। করোনার আতঙ্কে রোজগার করতে বেরোনোর বদলে ঘরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন নদিয়া-বর্ধমান-মেদিনীপুরের ওই কারিগরেরা।
স্বনামধন্য মৃৎশিল্পী চায়না পালের কাছে এ বছর মাত্র ৩-৪টে প্রতিমার বায়না এসেছে। কারিগর এসেছেন মাত্র তিন’জন। তাঁদের দিয়েই আপাতত বিশ্বকর্মা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন চায়না। বললেন, ‘ আমার কারিগরদের সকলেরই টিকার প্রথম ডোজ হয়ে গেছে। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। লকডাউনে এবং করোনা–পর্বের পাশাপাশি লোকাল ট্রেন বন্ধ। শিল্পীরা গালে হাত দিয়ে বসে আছেন। কারিগর নেই। ঘরে সেই পরিমাণ টাকাও নেই, যা দিয়ে লকডাউনের দুর্মূল্য বাজারে নিজেরাই প্রতিমা তৈরির সরঞ্জাম কিনে, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মিটিয়ে, প্রতিমা রেডি করে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকব।’