দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে পাকিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষীরা বন্দি করে ভারতের নাগরিক কুলভূষণ যাদবকে। অভিযোগ, তিনি বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতে গিয়েছিলেন। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের আদালত। তিনি প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। কিছুদিন আগে তাঁকে আদালতে রিভিউ পিটিশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, তিনি রিভিউ পিটিশন করতে চাননি। প্রাণভিক্ষার আবেদনই বহাল রেখেছেন।
যখন কোনও দণ্ডিত ব্যক্তি মনে করেন, তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়নি তখন তিনি রিভিউ পিটিশন করেন। অর্থাৎ বিচারের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান। পাকিস্তান দাবি করেছে, কুলভূষণ যাদব রিভিউ পিটিশন করতে চাননি। অর্থাৎ পাকিস্তানের দাবি, কুলভূষণ তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের কাছে তিনি আর্জি জানিয়েছেন যেন তাঁকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আহমেদ ইরফান বুধবার ইসলামাবাদে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ১৭ জুন কুলভূষণকে বলা হয়েছিল, তিনি দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য কোর্টে রিভিউ পিটিশন করতে পারেন। কিন্তু তিনি রিভিউ পিটিশন করতে চাননি।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কুলভূষণ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য ইরান থেকে বালুচিস্তানে ঢুকেছিলেন। ভারত এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লির বক্তব্য, কুলভূষণ নিজের ব্যবসার কাজে ইরানের চাবাহার বন্দরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে অপহরণ করে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্ট কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড দেয়।
গতবছর আন্তর্জাতিক আদালত ভারত তথা কুলভূষণের স্বার্থে রায় দিয়েছিল। তারপর থেকে ভারত কূটনৈতিক পথে পাকিস্তানের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যাতে তারা আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে চলে।
গতবছর জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক আদালত রায় দেয়, কুলভূষণের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশনে গৃহীত নীতি লঙ্ঘন করেছে। ভারতের কনস্যুলেটের প্রতিনিধিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া উচিত। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার গৌরব অহলুওয়ালিয়া জেলে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করেন।