কেশপুরের কবিতা লিখে বিতর্কে তৃণমূল জেলা সভাপতি, দিলেন ব্যাখ্যাও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিদির মতো তিনিও কবিতা (poem) লেখেন। সঙ্গে রাখেন ডায়েরি। যখন লেখা আসে, লিখে ফেলেন। সেই তিনি তৃণমূলের (TMC) ঘাটাল জেলা সাংগঠনিক সভাপতি আশিস হুদাইত এবার বিতর্কে জড়ালেন কবিতা লিখে। তারপর দিলেন ব্যাখ্যাও।
গত ১৬ অগস্ট আশিসবাবু
শেষ আপডেট: 3 September 2021 09:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিদির মতো তিনিও কবিতা (poem) লেখেন। সঙ্গে রাখেন ডায়েরি। যখন লেখা আসে, লিখে ফেলেন। সেই তিনি তৃণমূলের (TMC) ঘাটাল জেলা সাংগঠনিক সভাপতি আশিস হুদাইত এবার বিতর্কে জড়ালেন কবিতা লিখে। তারপর দিলেন ব্যাখ্যাও।
গত ১৬ অগস্ট আশিসবাবু তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তারপর তিনি একটি কবিতা লিখেছেন। সেই কবিতার কয়েকটি লাইন নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কী ছিল তাতে? তিনি লিখেছিলেন, কেশপুর আর অন্ধকারে হাঁটবে না।
বাকুঁড়ায় শ্রমিকের পেটে সাড়ে সাতশো গ্রামের মাংসপিণ্ড!
আশিসের এই লাইন নিয়েই দলের মধ্যে হইহই পড়ে যায়। অনেকেই বলতে শুরু করেন, আশিসবাবু কি বলতে চাইছেন? দিদি সরকার চালাচ্ছেন দশ বছর হয়ে গেল। তার মানে কি কেশপুরে আলো ঢোকেনি? নাকি ঠারেঠোরে দলের অন্য গোষ্ঠীকে আক্রমণ করতে চেয়েছেন? সেই কবিতায় সহাবস্থানের বার্তাও দিয়েছিলেন। তাই নিয়েও নিন্দুকদের কেউ কেউ বলেছিলেন, আশিস হুদাইত কি তাহলে বিজেপি-সিপিএমের সঙ্গে বোঝাপড়া করে চলতে চাইছেন?
শুক্রবার এসব নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিলেন তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। আশিসবাবু বলেছেন, সিপিএম জমানায় ঘন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল কেশপুর। সেখান থেকে দিদির জমানায় অনেকটা আলো ঢুকেছে। তবে আরও আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। সেটাই তিনি কবিতায় বোঝাতে চেয়েছিলেন। যা শুনে অনেকে বলছেন, আশিস হুদাইত রবীন্দ্র চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন, আরও আলো আরও আলো…!
আর সহাবস্থানের ব্যাখ্যা?
আশিসবাবুর কথায়, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যাতে কোনও রাজনৈতিক হিংসা না ঘটে, সমস্ত দলের লোকজন, সমস্ত ধর্মের মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন তার জন্যই তিনি সহাবস্থানের বার্তা দিয়েছেন।
একটা সময় ছিল কেশপুর ছিল বাংলার আলোচনার নিউক্লিয়াস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই স্লোগান কেশপুর সিপিএমের শেষপুর। কিংবা তারপর সিপিএমের পাল্টা গেরিলা অপারেশন। দীপক সরকার, সুশান্ত ঘোষদের সেই প্রতাপ, সিপিএম জোনাল দফতর জামশেদ আলি স্মৃতি ভবনকে বাঙ্কারে পরিণত করার ঘটনা বাংলার রাজনীতির ইতিহাস হয়ে রয়েছে। এবার সেই কেশপুরই উঠে এল আলোচনায়। তবে আর বোমা, বন্দুক, রক্তারক্তিতে নয়। কবিতার লাইনে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'