আধো আধো গলায় 'কাজলা দিদি', ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম কাটোয়ার ছোট্ট সম্পূর্ণার
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, বয়স মাত্র চার বছর, মায়ের কলে বসে যতীন্দ্রনাথ বাগচীর কাজলা দিদি কবিতাটি আধো আধো ভাষা মুখস্ত বলে চলেছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চাশটি বাংলা কবিতা এই ভাবেই আবৃতি করতে পারে সে। এই বয়সেই অনন্য প্রতি
শেষ আপডেট: 11 February 2021 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, বয়স মাত্র চার বছর, মায়ের কলে বসে যতীন্দ্রনাথ বাগচীর কাজলা দিদি কবিতাটি আধো আধো ভাষা মুখস্ত বলে চলেছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চাশটি বাংলা কবিতা এই ভাবেই আবৃতি করতে পারে সে। এই বয়সেই অনন্য প্রতিভার অধিকারী সে। তাই জিতে নিয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে মত বড় সম্মানও। কাটোয়ার মেয়ে ছোট্ট সম্পূর্ণাকে নিয়ে এখন গর্বিত বর্ধমান। স্টেডিয়াম পাড়ার গোস্বামী দম্পতির একমাত্র মেয়ে সম্পূর্ণা। তাঁদের বাড়ি গুসকরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরেই স্টেডিয়াম পাড়াতেই থাকেন। বাবা অতনু গোস্বামী একজন স্কুল শিক্ষক।
প্রথম থেকে অতনুবাবুর ইচ্ছে মেয়ে সম্পূর্ণা ভবিষ্যতে বাচিকশিল্পী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। দু'বছর বয়স থেকেই তাই সম্পূর্ণাকে সেভাবেই মানুষ করছেন তিনি। বাংলার বিশিষ্ট কবিদের কবিতা আবৃতি করতে শিখিয়েছেন গোস্বামী দম্পতি। যেসময় সম্পূর্ণার বয়সী বাচ্চারা কার্টুন আর ভিডিয়ো গেমস নিয়েই কাটিয়ে দেয়, সেই সময় তার দিন কাটে মায়ের সঙ্গে কবিতা আবৃতি করে।

অতনুবাবু জানান, সম্পূর্ণা শুধু কবিতা আবৃতিই নয়, না দেখে সে ইংরাজি বর্ণমালা স্পষ্টভাষা বলতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ করা ও ছবি আঁকাতেও সে পটু। তবে ছোট সম্পূর্ণার চোখে রয়েছে অন্য স্বপ্ন। সে জানিয়েছে, বড় হয়ে সে নার্স হতে চায়।
এদিকে মা শ্রাবণী গোস্বামী জানান, মেয়ের যখন দুবছর বয়স তখন থেকে আমার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আবৃতি করত। ধীরে ধীরে পঞ্চাশটি কবিতা মুখস্থ করে ফেলে সে। এখন রীতিমত গড় গড় করে না দেখেই ওই কবিতাগুলি আবৃতি করতে পারে সম্পূর্ণা। শ্রাবণী জানান, তিনি আবৃত্তি চর্চা করতে ভালোবাসেন। তাই মেয়েকেও সেই দিকে এগিয়ে দিতে চান।
অতনুবাবু জানিয়েছে, সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের একটি সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপে মেয়ের আবৃতির ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। সেটা নিমিষে ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে উৎসাহিত হয়েই ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডসে মেয়ের নামে নমিনেশনের জন্য পাঠান, একই সঙ্গে সম্পূর্ণার প্রতিভার কয়েকটি ভিডিয়ো নমুনা হিসাবে জুড়ে দেন। সেইগুলোই বিচারকদের মন কেড়ে নেয়।
২০২০ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডসের পক্ষ থেকে জানানো হয় অন্যান্য প্রতিভার জন্য সম্পূর্ণার রেকর্ড হয়। জানুয়ারি মাসে ডাক যোগে বই, রেকর্ডের সার্টিফিকেট, পদক,কলম, পাঠায় সংস্থা। তবে সেদিকে অত খেয়াল নেই সম্পূর্ণার। আগের মতোই বাবা-মায়ের সঙ্গে আবৃতিতেই প্রতিনিয়ত মসগুল থাকে সে।