দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক অনটন তাদের রোজকারের সঙ্গী। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসার। আশার আলো শুধু জ্বেলে রেখেছে দুই মেয়ের উদায়স্ত ঘাম ঝরানো খেলা! সব খেলার সেরা বাঙালির প্রিয় ফুটবল!
অঞ্জলি বিশ্বাস আর অনন্যা মিস্ত্রী। বর্ধমানের গুসকরার এই দুই কন্যাই এ বার জায়গা করে নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের পোস্টারে। গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়ের অনন্যা ও গুসকরা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের অঞ্জলি দুজনেই দাপিয়ে ফুটবল খেলে। গুসকরা মিউনিসিপ্যাল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহিলা টিমের এই দুই খেলোয়াড়কে এ বার খেলতে দেখা যাবে কলকাতার মাঠেও।
বল পায়েই তাদের ছবি থাকছে রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রীর পোস্টারে।
বর্ধমানের গুসকরা এমনিতে বর্ধিষ্ণু এলাকা। তবে উন্নয়নের আলো যে সব জায়গায় পৌঁছেছে এমনও নয়। দারিদ্রও রয়েছে বিস্তর। এমনই দুই অভাবি পরিবার থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু মেয়ে। অঞ্জলী ও অনন্যা তাদের মধ্যে অনন্য। অভাবের সংসার হলেও দুজনের বাবাই বুটের অভাব বুঝতে দেন না মেয়েদের। শারীরিক কসরতের জন্য যেটুকু পুষ্টিকর খাবারের দরকার তাও কমবেশি যোগানের চেষ্টা করেন মেয়েদের। কন্যাশ্রী-র পোস্টারে মেয়েরা ঠাঁই পাওয়ায় দুই পরিবারেই এখন গর্বে-খুশিতে চোখে জল আসছে মাঝে মাঝেই। গোটা গুসকরার মানুষের মুখে মুখে এখন এই দুই কন্যার নাম। অ-এ অঞ্জলী, অ-এ অনন্যা!
মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের এক আমলার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী এমনটাই চেয়েছিলেন। কন্যাশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্যও তাই। গ্রাম ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মেয়েদের সামাজিক ক্ষমতায়ণ। শিক্ষায়, খেলাধূলায়, কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। ইতিবাচক যে সেটা রাষ্ট্রসঙ্ঘও স্বীকৃতি দিয়েছে।
দফতরের ওই আমলার কথায়, আসলে কন্যাশ্রী প্রকল্প এমন নয় যে সঙ্গে সঙ্গে ফল দেবে। এর সামাজিক সুফল সুদূরপ্রসারী। অঞ্জলি ও অনন্যা বাংলার গ্রাম গঞ্জের হাজার হাজার মেয়ের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ভাবেও দারিদ্র ও অনগ্রসরতার মোকাবিলা করে উঠে আসা যায়! সে কারণেই তাদের ছবি রাখা হয়েছে। আগামী দিনেও সরকার এ ভাবেই কন্যাশ্রী-দের বাংলার মুখ করে তুলবেন।