
রাজস্থানের বাসিন্দা সোলজার আলি।
শেষ আপডেট: 30 June 2024 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থান থেকে বাংলায় এসে বুজরুকি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল 'কেরামতি পাথর'! দাবি করা হচ্ছিল, ওই পাথর কাছে রাখলে নাকি সাপ ধারেকাছে আসবে না। আর যদিও বা আসে, এমনকি ছোবলও দেয়, তাহলে সেই পাথর ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলে নাকি মুহূর্তে বিষ শুষে নেবে সেটি।
এমনই লোকঠকানো কারবার চলছিল জলপাইগুড়ির দিনবাজার এলাকায়। অবশেষে ধরা পড়া গেল জলপাইগুড়ি ওয়াইল্ড লিফ নামে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের কর্মীদের হাতে।
জানা গেছে, রবিবার দুপুরে একজোড়া পায়রা ও কিছু প্লাস্টিকের সাপ নিয়ে এসে 'মাদারির খেল' দেখাচ্ছিল একদল লোক। সেই খেলার আড়ালেই চলছিলো বুজরুকির কারবার। টাকার বিনিময়ে দর্শকদের হাতে কেরামতি পাথর বলে গুঁজে দেওয়া হচ্ছিল অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন পাথর।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দর্শক সেজে পুরো ঘটনার ওপর নজরদারি চালান জলপাইগুড়ি ওয়াইল্ড লিফ নামে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের কর্মীরা। এরপর হাতেনাতে ধরতেই নিজেদের ভুল স্বীকার করে ওই রাজস্থানিরা। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েম উপস্থিত দর্শকেরা। ওই রাজস্থানিদের কাছ থেকে পাথর ও পায়রা বাজেয়াপ্ত করে নেন পরিবেশকর্মীরা।
রাজস্থানের বাসিন্দা সোলজার আলি ধরা পড়ার পরে বলেন, পেটের তাগিদে এইসব খেলা দেখান তাঁরা। তবে এভাবে লোক ঠকানো ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
ওয়াইল্ড লিফের সম্পাদক দেবার্ঘ্য রক্ষিত বলেন, 'আমরা সবসময় বলে আসছি, সাপ ছোবল দিলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যাওয়া উচিত। কারন এর একমাত্র চিকিৎসা অ্যান্টিভেনাম থেরাপি, যা সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমরা আজ এই রাজস্থানিদের কাছ থেকে দুটি পায়রা ও কিছু পাথর বাজেয়াপ্ত করেছি। পায়রাগুলিকে উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।'