
শেষ আপডেট: 17 August 2023 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যে ছেলে তিন মাস অন্তর নিয়ম করে মানুষের জন্য রক্তদান করত, সে কীভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে সামিল হতে পারে! এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে যাদবপুর কাণ্ডে (Jadavpur Student Death) ধৃত সুমন নস্করের দিদি তিথি নস্কর।
বুধবার ভোরের আলো ফুটতেই কুলপির (Kulpi Student Arrest) আট মসিপুর গ্রামে সুমনদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে ফোন করে জানানো হয় গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।
সুমনের বাবা জগদীশ নস্কর বলেন, “বুধবার ভোরে বাড়িতে এসেছিল পুলিশ। বাড়ির গেটের তালা খুলতে বলে। আমরা দরজা খুলে দিই। এরপর সুমন বাড়িতে আছে কিনা জানতে চায়। সে ঘরেই ছিল। তাকে বাইরে আসতে বলি। তারপর ওর ভোটার কার্ড দেখতে চায় পুলিশ। তা দেখানোর পর ছেলেকে নিয়ে যায়। জানিয়ে যায়, যাদবপুরের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
এবছরই এমএ পরীক্ষায় পাশ করেছেন সুমন। দর্শনের এই ছাত্র নেট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর দিদি তিথি নস্কর। তিনি নিজেও যাদবপুরের ছাত্রী। যাদবপুর থেকে এমএ, এম-ফিল করে এখন পিএইচডি করছেন। পাশাপাশি পড়াচ্ছেন মাধবপুর কলেজে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলে র্যাগিং হয়, এটা কানে আসত। তাই যাদবপুরে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ভাইকে খুব সাবধানে থাকতে বলতাম। কিন্তু এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ওর নাম জড়াবে কল্পনাই করতে পারছি না। ওতো বরাবর খুব পরোপকারী। মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে যায়। পুলিশ ওকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই। কিন্তু আমি তো আমার ভাইকে চিনি।”
তিথি জানান, ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সুমন হটুগঞ্জ হাইস্কুলের ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়ার পর ডায়মন্ডহারবার হাইস্কুলে ক্লাস ইলেভেন-টুয়েলভে পড়াশোনা করে। তারপরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন নিয়ে পড়াশোনা শুরু হয়। ঘটনার দিন সুমন হস্টেলে থাকলেও ওই সময় বাইরে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আসিফ গ্রেফতার হতেই আসানসোলের টালির ঘরে সব স্বপ্ন তছনছ, জ্ঞান হারাচ্ছেন মা