শেষ আপডেট: 9 December 2019 07:02
নুর আলম পেশায় ট্রাক ড্রাইভার, তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে। ট্রাকে করে তিনি কাঁকিনাড়ায় রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ডেলিভারি করতে গিয়েছিলেন। গ্যাসের গুদামের সামনে বসে তিনি চা খাচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ পেপার মিলের পাঁচিল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অজিত সাউ ও মুন্না যাদব-সহ তিন জন। আর এক জনের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের প্রথমে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের আঘাত গুরুতর বলে সেখান থেকে তাঁদের কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জগদ্দল ও ভাটপাড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। তাঁরা উদ্ধারকাজ শুরু করে দেন। ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন, তাই তাঁদের উদ্ধার করার জন্য দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়ে যায়। যদিও নতুন করে কাউকে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায়নি।
কাগজকলের পাঁচিলের ভগ্নদশার জন্য এলাকার বাসিন্দারা তো বটেই, ঘোষপাড়া রোডের নিত্য যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ এই পাঁচিল পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তাই আবার দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকার কাউন্সিলর সোহম চৌধুরী জানান, সোমবারই এই পেপার মিলের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে। এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন, প্রশাসনের তরফে এই জীর্ণ, ভগ্নপ্রায় পাঁচিলের সংস্কার করা হোক। যত দিন পর্যন্ত তা না করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে সমস্যার আশু সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। কারণ প্রশাসনিক পদ্ধতি মেনে এই পাঁচিল তৈরিতে মিল কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়ে পাঁচিলের সংস্কার করাতে অনেক সময় লেগে যাবে। ততক্ষণে আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তাই তাঁরা চান, পুরসভা এখনই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হোক।