
যুগলকে ন্যাড়া করে মারধর!
শেষ আপডেট: 23 September 2024 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: পরকীয়া সম্পর্কের বিচারের জন্য সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল। যুগলকে মাথা ন্যাড়া করে হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে মারধর করার পরে গ্রামে ঘোরানোর অভিযোগ উঠল মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। ফের এমন ঘটনা ঘটল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ভাইরাল হতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় সোমবার। যদিও এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
চলতি বছরের জুলাই মাসে এমন একটি ঘটনা সমানে এসেছিল। পরকীয়া জড়িয়ে পড়ায় রাস্তায় ফেলে যুগলকে মারধর করা হয়। বাম নেতা মহম্মদ সেলিমের এই ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্যে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শুরু হয় শাসক-বিরোধী তরজা। এই ঘটনায় শাসকদল ঘনিষ্ট তাজমুল হক ওরফে জেসিবিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সুয়োমোটো মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার দুমাসের মাথায় আরও এক ঘটনা সামনে এল। এক্ষেত্রে, রুইয়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য -সহ তৃণমূলের একদল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
কী ঘটেছিল? এ প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রুইয়া গ্রামটি জনজাতি অধ্যুষিত। গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয় জড়িয়ে পড়েছিলেন সেই গ্রামেরই এক বধূ। স্বামী সহ চার সন্তানকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিলেন। দুদিন পরে যুগলকে খুঁজে বের করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের নিয়ে সালিশি সভার বসানো হয়। গ্রামের মাতব্বরা মিলে ঠিক করেন, পরকীয়ার জড়িয়ে পড়ার অপরাধে যুগলের মাথা ন্যাড়া করিয়ে গ্রামে ঘোরাবেন। এমনটাই করেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, গ্রাম ঘোরানোর আগে যুগলকে বেঁধে রেখে কিল, চড়, লাথি, ঘুষিও মারা হয়। ওই দিনের ঘটনার একটি ভিডিওই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিও দেখার পরেই অনেকের দাবি, এই ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতার সমান। যদি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েতের সদস্য মহম্মদ নাসিফ আলমকে প্রশ্ন করা হলে, তাঁর দাবি, ”চার ছেলেমেয়ের মা কীভাবে অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে যায়?" এরপরেই তাঁর দাবি, তিনি ওই দিন উপস্থিত ছিলেন না। সব পরে জানতে পেরেছেন। ইসলামপুর পুলিশ সুপার জবি থমাস জানিয়েছেন, এখনও ঘটনার অভিযোগ তাঁদের কাছে জমা পড়েনি। অবশ্যই তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।