দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে বহাল তবিয়তেই আছে জইশ-মাথা মৌলানা মাসুদ আজহার। প্যারিস বৈঠকের আগে এমন খবরই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। খবর মিলেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ছাতার তলায় পাকিস্তানের বহাওয়ালপুরের বিলাসবহুল ‘মারকাজ-ই উসমান-ও-আলি’তেই রাখা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ তকমা পাওয়া মাসুদ আজহার ও তার ভাই মৌলানা রউফ আসগরকে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বাহাওয়ালপুর থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাসুদকে।
জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদতের বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে তৈরি ভারত। জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা তথা ২০০১-এ ভারতে সংসদ হামলা-সহ গত বছর পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার মূল চক্রী মাসুদের হদিশ না মেলায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে আগই দাবি তুলেছিল ইসলামাবাদ। সেই দাবি উড়িয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা পাল্টা দাবি করেছিল, পাকিস্তানে জইশের সদর দফতরেই গা ঢাকা দিয়ে আছে মাসুদ। সেখানে বসেই নতুন করে নাশকতার ছক কষছে।
প্রথমে জানা গিয়েছিল ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরেই রাওয়ালপিণ্ডিতে চকশাহজাদে রয়েছে মাসুদ ও তার পরিবার। পরে খবর মেলে, বিলাসবহুল মারকাজ –এ-উসমান আলিতেই অন্যান্য জইশ কম্যান্ডারদের সঙ্গে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছে মাসুদ। ফের গোয়েন্দা সূত্র খবর দেয়, বাহাওয়ালপুরের বিলাসবহুল বাংলো থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাসুদ ও তার ভাইদের। কী কারণে তাদের ডেরা বদল করা হয়েছে সেটা জানা যায়নি, তবে গোয়েন্দাদের অনুমান, সুরক্ষার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে মাসুদের সঙ্গেই রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের অপারেশনাল চিফ এবং জিহাদি ম্যাগাজিন আল-কালামের মাথা মৌলানা আম্মার।
ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও জানাচ্ছেন, মুম্বই হামলার মূল চক্রীদের অন্যতম মারকাজ উসমান ও আলি বাহাওয়ালপুর-করাচি রোডের একটি বাড়িতে রয়েছে। আসলে সেটা জৈইশ-ই-মহম্মদের হেড কোয়ার্টার। ওই বাড়িতেও মাঝে মাঝে দেখা যায় মাসুদকে। তার সম্ভাব্য যে ঠিকানাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো হল— বাহাওয়ালপুরের কৌসর কলোনি, খাইবার-পাখতুনখোয়ার বান্নু এলাকার মাদ্রাসা বিলাল হাবসাই এবং লাক্কি মারওয়াটের মাদ্রাসা মসজিদ-ই লুকমান। গোয়েন্দাদের দাবি, বারে বারেই ডেরা বদলাচ্ছে মাসুদ। ভারতের কাছে আরও খবর রয়েছে, ২৬/১১-র হামলার আর এক চক্রী জাকিউর রহমান লকভিকেও বর্মা শহরে সুরক্ষিত আশ্রয়ে রেখেছে আইএসআই। লকভির সন্ধান মিলছে না বলে তাঁর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছিল পাক সরকার।
প্যারিসের বৈঠকে কালো তালিকায় না পড়লেও, ধূসর তালিকা থেকে বেরোতে পারেনি পাকিস্তান। সন্ত্রাসের অর্থ জোগানের উপরে নজরদারির আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফ কড়া ভাবেই বলে দিয়েছে, নির্ধারিত ২৭টি শর্তের মধ্যে ১৩টিই পালন করতে পারেনি পাকিস্তান। অতএব এখনই ধূসর তালিকার বাইরে রাখা যাবে না পাকিস্তানকে। এপ্রিল মাসের মধ্যে নিজেদের ধূসর তালিকার বাইরে বের করতে না পারলে ফের কালো তালিকাভুক্ত হতে হবে তাদের। পাকিস্তান অবশ্য হার মানতে রাজি নয়। পষ্টাপষ্টি তারা ঘোষণা করেছে, আগামী চারমাসের মধ্যেই আট শর্ত পালন করে ফেলবে তারা। যার মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদত জোগানো বন্ধ থেকে আন্তর্জাতিক তকমাধারী সন্ত্রাসবাদীদের কড়া সাজা ঘোষণা, সব শর্তই রয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছে, আইএসআইয়ের মদতে খাইবার পাখতুনখোয়ার ওয়াজিরস্থান থেকে কয়েক হাজার বেকার যুবককে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ানোর কাজ চলছে। যাদের মগজধোলাই করে জিহাদের ভাবনা জাগাচ্ছে মাসুদ। এরপরে এজের পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটির প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হবে। এইসব কাজকর্মই নিরাপদে ও গোপনে সেরে ফেলার কারণেই মাসুদের ডেরা বদল করা হয়ে থাকতে পারে।