এইডস মুক্তি, ওষুধ-থেরাপি ছাড়াই মারণ রোগ সারালেন ৬৬ বছরের মহিলা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওষুধ নয়। কোনও অস্ত্রোপচারও নয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মতো জটিল সার্জারিও নয়। তাও মারণ রোগ সারিয়েছেন ৬৬ বছরের মহিলা। প্রাকৃতিকভাবেই রোগ সেরেছে তাঁর। আর যে সে রোগ নয়। পৃথিবীর দুরারোগ্য ব্যধিগুলির মধ্যে একটি--এইডস।
এইডস সার
শেষ আপডেট: 26 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওষুধ নয়। কোনও অস্ত্রোপচারও নয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মতো জটিল সার্জারিও নয়। তাও মারণ রোগ সারিয়েছেন ৬৬ বছরের মহিলা। প্রাকৃতিকভাবেই রোগ সেরেছে তাঁর। আর যে সে রোগ নয়। পৃথিবীর দুরারোগ্য ব্যধিগুলির মধ্যে একটি--এইডস।
এইডস সারিয়েছিলেন এর আগে দু’জন। একজনের নাম অ্যাডাম ক্যাস্টিল্লেজো। যাঁকে বলা হয় ‘লন্ডন পেশেন্ট’ । তিনি একই সঙ্গে ক্যানসার ও এইডস সারিয়ে সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছিলেন। দ্বিতীয়জন জার্মানির টিমোথি রে ব্রাউন। এইডস জয়ী টিমোথিকে বলা হয় ‘বার্লিন পেশেন্ট’ । এইডস ও ক্যানসারের মতো মারণ রোগ সারিয়ে বিশ্বে রেকর্ড করেছিলেন এই দু’জন। তবে তাঁদেরও অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই মহিলার কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি। নিজে থেকেই সেরে গেছে মারণ রোগ।
নাম লরিন উইলেনবার্গ। নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই এইচআইভি ভাইরাসকে হারিয়ে লরিন এখন খবরের শিরোনামে। ‘নেচার’ সায়েন্স জার্নালে লরিন উইলেনবার্গের এইচআইভি জয় করার খবর সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা লরিন। ১৯৯২ সালে এইডস ধরা পড়ে তাঁর। কিন্তু এরপর থেকে কোনও চিকিৎসা হয়নি লরিনের। তাঁর শারীরিক অবস্থাও সঙ্কটের দিকে যায়নি। সম্প্রতি জানা গেছে, এইডস সম্পূর্ণভাবেই সারিয়ে উঠেছেন ৬৬ বছরের মহিলা।
এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস)ভাইরাস একধরনের রেট্রোভাইরাস যা মানুষের জিনোমে ঢুকে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। সংখ্যায় বেড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে তছনছ করে দিতে পারে। তখন সামান্য রোগেও মৃত্যু হতে পারে রোগীর। গবেষকরা বলছেন, লরিনের মতো কিছু মানুষ আছেন যাঁদের ইমিউন সিস্টেম সবসময় সক্রিয় থাকে। এঁরা বিরল গ্রুপে পড়েন। বিশ্বে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের মধ্যে ০.৫ শতাংশ এমন মানুষ থাকেন যাঁদের প্রাকৃতির রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রচণ্ড বেশি। শরীরের ভাইরাস বা প্যাথোজেন ঢুকলে তার মোকাবিলা শরীর নিজেই করতে পারে। ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য বাইরে থেকে কোনও ওষুধ দেওয়ার দরকার পড়ে না। এমনকি শরীরের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্থ কোষও নিজে থেকেই সারতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর শ্যারন লেউইন বলেছেন, লরিনের মতো রাগীদের শরীরে ভাইরাস জিনোম কোষে ঢোকে কিন্তু নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। কারণ এই রোগীদের টি-কোষ খুব সক্রিয় হয়। এমনও দেখা গেছে, লরিনের মতো রোগীদের শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি, কিন্তু টি-লিম্ফোসাইট কোষ অ্যাকটিভ হয়েছে। টি কোষ তার রিসেপটর প্রোটিন সিডি৮ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাইরাস সংক্রামিত কোষকে ধ্বংস করেছে। শ্যারন বলছেন, ঘাতক টি কোষ (Killer T Cells) এই রোগীদের শরীরে খুব সক্রিয়। তাই ভাইরাস ঢুকলেও সে ডালপালা ছড়াতে পারে না। একটা সময় দেখা যায় সংক্রামিত কোষ নিজে থেকেই তার ক্ষত সারাতে পারছে। যদিও এটা খুবই বিরল ঘটনা তবে লরিনের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর জু ইউ বলছেন, এই ধরনের রোগ সারাবার ক্ষমতাকে বলে ‘ফাংশনাল কিওর’ (Functional Cure) । কোনওরকম ওষুধ বা থেরাপি ছাড়াই যখন শরীরের ভেতর নিজে থেকেই ভাইরাস নির্মূল হয়ে যায়। গবেষক বলছেন, এই রোগীদের শরীরের মেমরি-কোষ যে কোনও প্যাথোজেন বা ভাইরাসকে একবার দেখলে তাকে চিনে রাখতে পারে। সংক্রমণ হলেই মেমরি কোষ বার্তা পাঠায়। প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যার কারণে শরীরের ভেতরেই ভাইরাস আক্রান্ত কোষ নষ্ট হয়ে যায়।