
শেষ আপডেট: 14 October 2023 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মহালয়ার ভোরে তিস্তাপাড়েই পিতৃপুরুষকে স্মরণ করেন জলপাইগুড়ির মানুষ। এবার অন্যথা হল সেই নিয়মে। তিস্তায় যে মর্টার শেল! তাই নদীতে নামায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই শনিবার জলপাইগুড়ি তর্পণ সমিতির সদস্যরা তিস্তার বদলে পাড়ার পুকুরে তর্পণ সারলেন। জলপাইগুড়ি শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে পান্ডাপাড়ার পঞ্চায়েত পুকুরে তর্পণ সারলেন তাঁরা। তারপর প্রথা মেনে দুঃস্থ মানুষদের ফল ও বস্ত্র দান করা হল।
সমিতির সদস্য জয়দীপ বন্দোপাধ্যায় বলেন, “১৫ বছর আগে এই তর্পণ সমিতি গঠন করা হয়। তারপর থেকে প্রতিবছর তিস্তাতেই তর্পণ করতাম। কিন্তু এবার যেহেতু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই আমরা তিস্তায় যাইনি। আশা করি দেবীর আশীর্বাদে খুব তাড়াতাড়ি তিস্তা নদী বিপদমুক্ত হবে। সামনের বছর আবার আমরা তিস্তা পাড়েই তর্পণ করব।”
৪ অক্টোবর ভোরে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সিকিম। বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ভেঙে যায় বাড়িঘর-ব্রিজ-রাস্তা। হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে আস্ত সেনা ছাউনি। সেই সঙ্গে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে ক্যাম্পে মজুত গোলা বারুদ ও অন্য সরঞ্জাম। বিধ্বংসী বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আস্ত সেনা ক্যাম্প। এখনও নিখোঁজ সেনা জওয়ানরা। তারপর থেকেই তিস্তা নদী থেকে দফায় দফায় উদ্ধার হয়েছে প্রচুর সমরাস্ত্র। ৫ অক্টোবর কুড়িয়ে আনা শেল ফেটে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। তাতেই বিপদ বুঝতে পারে প্রশাসন। বিপজ্জনক বস্তুর খোঁজে সার্চ অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীতে না নামার জন্য নির্দেশ জারি করে প্রশাসন। নদী দূষণও একটা বড় কারণ।