দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার শস্যগোলা হিসাবেই পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলা। রাজ্যজুড়ে উৎপাদিত ধানের সিংহভাগ আসে এই জেলা থেকেই। কিন্তু গত কয়েক মাসে পোকার আক্রমণে জেলা জুড়ে আমন ধানে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি, ভাতার সহ একাধিক এলাকা জুড়ে একই চিত্র।
পোকার আক্রমণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ফলে কার্যত দিশেহারা কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন তাঁরা। কিন্তু পোকার আক্রমণে বিঘা প্রতি নূন্যতম খরচও উঠবে না। এ বিশাল ক্ষতি। তাই কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ মকুবের দাবি করেছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার ভাতার ব্লকে আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে আসেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাতার ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা বিপ্লব প্রতিহার, জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ জহর বাগদি, ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ প্রদ্যোৎ পাল সহ অন্যান্যরা।
মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, এবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পোকার আক্রমণের ফলে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। জেলার অন্যান্য ব্লকের তুলনায় ভাতার ব্লকে আমন ধানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। বাংলা শস্যবীমার মাধ্যমে যাতে কৃষকরা ফসলের ক্ষতিপূরণ পায়, তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষতিপূরণের রিপোর্ট পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, ভাতার ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা বিপ্লব প্রতিহার জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে এবছর পোকার আক্রমণ বেশি হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বেশি, আবার রাত্রে কম থাকা কারণে বাদামি শোষক পোকার আক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা বেশি। দেখা গেছে ভাতার ব্লকের পোকার আক্রমণে ১৭ হাজার হেক্টর ধান জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এই রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।