দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি ঠিকমতো পালন করছে না রাজ্য সরকার-- এমনই অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথ ভাবে চিঠি পাঠাল রাজ্যের সাতটি চিকিৎসক সংগঠন। তারা লিখেছে, আইসিএমআরের নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে করোনা সংক্রমণকে রুখতে হবে রাজ্যে।
বাংলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসক সংগঠন 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম' (ডব্লিউবিডিএফ) সবার প্রথম থেকেই করোনা সংক্রমণ রুখতে আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে সঠিক নিয়মে চিকিৎসার দাবি জানিয়ে এসেছিল। এদিন তাদের সঙ্গেই গলা মেলাল আইএমএ, এএইচএসডি, এইচএসএ, ডিওপিএ, এসএসইউ, এসডিএফ এবং এমএসসি-- এই সমস্ত সংগঠনের চিকিৎসকরাও। সকলে একসঙ্গে চিঠি লিখে রাজ্য সরকারের কাছে একই দাবি জানালেন তাঁরা।
করোনা সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করার প্রথমেই রাজ্য সরকারের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিটির মূল উদ্দেশ্য হল, করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনও রোগী মারা গেলে বা তাঁর রিপোর্টও করোন পজিটিভ এলে, সে মৃত্যুর কারণ করোনাই কিনা তা খুঁজে বার করা। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই করোনা উপসর্গ থাকলেও, অন্য অসুখের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ভর্তি হচ্ছিলেন রোগীরা।
এই অবস্থায় ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার পরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী মৃত্যুর পরে, কমিটির দেওয়া শংসাপত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোভিড ১৯ পজিটিভ লেখা থাকলে তবেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে মানছিল প্রশাসন।

আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, এই পদ্ধতি ঠিক নয়। আইসিএমআরের নিয়ম অনুযায়ী, 'ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অফ ডিজিজ'-এর কোড নম্বর মেনেই ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করতে হবে। কিন্তু এ রাজ্যে সেই নিয়ম মানা হয়নি। পাশাপাশি চিকিৎসক সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনীয় পিপিই পাচ্ছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছিল চিকিৎসকদের নানা মহল থেকে।
এদিন চিকিৎসকদের এই সংগঠনগুলির তরফে দেওয়া চিঠিতে যাঁরা করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসছেন এমন সব স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এছাড়াও যে দাবিগুলি তাঁরা রেখেছেন সেগুলি হল, কোভিড রোগীদের যেন কোভিড হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। আইসিএমআর-এর নিয়ম মেনে যেন আরও টেস্ট করা হয়। করোনা পজিটিভ রোগী মারা গেলে তাঁর মৃত্যুর কারণ যেন কোভিড ১৯-ই লেখা হয়।
এছাড়াও, স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবার, যানবাহন, পরিবার, বাসস্থানের ব্যাপারে কোনও অভিযোগ থাকলে তা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মীরা কোয়ারেন্টাইনে গেলেও যেন তার মান সুনিশ্চিত করা হয় সরকারি ভাবে। প্রশাসন যেন সমস্ত কমিটিতে আরও বেশি সংখ্যক ভাইরোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও এপিডেমিওলজিস্ট নিযুক্ত করেন। আক্রান্ত ও মৃতের স্বচ্ছ পরিসংখ্যান যেন দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে।
এই চিঠির ব্যাপারে অবশ্য স্বাস্থ্য ভবন এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তা জানালে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।