
শেষ আপডেট: 19 July 2020 11:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান না হওয়ায় বধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযেগ উঠল বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার রামেশ্বরপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওই তরুণার স্বামী-সহ শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হবে তাদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত তিন বছর আগে বসিরহাটের সাকচুড়া দাশপাড়ার বাসিন্দা রিয়া দাসের সঙ্গে হাসনাবাদ রামেশ্বরপুর গ্রামের দেবদাসের ভালবাসার সম্পর্ক হয়। কিন্তু তাঁদের এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না রিয়ার বাবা-মা। কিন্তু শেষমেশ বিয়ে হয় নিয়ম মেনেই।
অভিযোগ, বিয়ের ছ'মাস পর থেকেই রিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত তার স্বামী দেবদাস। পণের দাবিতে বারবার চাপ দিত রিয়াকে। রিয়ার বাপেরবাড়ি যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল। রিয়ার শাশুড়ি বাতাসী দাস ও শ্বশুর সঞ্জয় দাসের সঙ্গেও বচসা ও গন্ডগোল হয় রিয়ার একের পর এক অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়।
এঢমকি কয়েক মাস আগে রিয়ার মাথায় হাতুড়ির বাড়ি মারারও অভিযোগ ওঠে শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর বিরুদ্ধে। এসবের পাশাপাশি রিয়ার সন্তান না হওয়ার জন্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চলতে থাকে।
রিয়ার মা সুমিত্রা দাসের অভিযোগ, গতকাল শনিবার সন্ধ্যেবেলায় রিয়া বাপের বাড়িতে আসার জন্য তার স্বামীকে বললে তারা আসতে দিতে রাজি হয়নি। সেই সঙ্গে আবার সন্তান না হওয়ার কথা বলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ চলে। সহ্য করতে না পেরে রিয়া প্রতিবাদ করলে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি রিয়ার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেয় বলে দাবি সুমিত্রা দাসের।
রিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে প্রথমে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল নিয়ে যায়। তার পর কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আজ রবিবার দুপুর বেলায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
এখানেই শেষ নয়, হাসনাবাদ থানার তরফে মৃত বধূর দেহ গ্রামে আনলে, গাড়িতে দেহ রেখে পালানোর চেষ্টা করে রিয়ার শ্বশুর-শাশুড়ি। শেষমেশ রিয়ার পরিবার তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অপরাধীদেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে নিহত রিয়ার পরিবার।