দ্য ওয়াল ব্যুরো,উত্তর ২৪ পরগনা: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে সারা দেশে সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার বিকেলেই। এই কদিন তেরঙ্গা পতাকা থাকবে অর্ধনমিত। সরকারিভাবে পালিত হবেনা কোনও আনন্দ অনুষ্ঠান। কিন্তু মঙ্গলবার সকালেই সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখল বারাসতের ডাকবাংলো মোড়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তার একাধিক লাইট পোস্টে লাউডস্পিকার বেঁধে গান বাজল সারাদিন ধরে। এভাবেই ঘটা করে পুলিশ দিবস পালন করা হল উত্তর ২৪ পরগনার জেলাসদর বারাসতের ডাকবাংলো মোড় এলাকায়।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় এক ছবি দেখা গেল জেলাশাসকের দফতর লাগোয়া কাছারি মাঠ এলাকাতেও। কাছারি মাঠ সংলগ্ন পুলিশ আবাসনের বাসিন্দারাও বিরক্ত এই ঘটনায়। নাম গোপন রাখার শর্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ পুলিশ আবাসনের আবাসিকেরাই। তাদের অভিযোগ সামান্য উদযাপনের ছুতো পেলেই তারস্বরে মাইক বাজে কাছারি মাঠ এলাকায়। তিতিবিরক্ত আশেপাশের এলাকাবাসীরা। বনমালীপুর অঞ্চলে যেসব ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে বসে ইদানীং অনলাইনে পড়াশোনা করছেন তাদেরও প্রাণ ওষ্ঠাগত। ডেসিবলের মাত্রা অতিক্রম করে প্রায়শই জোরে জোরে মাইক বাজার ফলে় ব্যাহত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের অনলাইনের পড়াশোনা। দরজা-জানালা বন্ধ করে, কানে হেডফোন গুঁজেও এই শব্দ দানবের আক্রমণ থেকে রেহাই মিলছে না ছাত্র-ছাত্রীদের।
খবর নিয়ে জানা যায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে মঙ্গলবার রাজ্যের সর্বত্র পূর্বনির্ধারিত পুলিশ-দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই খবর না কি জানতেনই না কাছারি মাঠ সংলগ্ন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী ও ডাকবাংলো ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা। ঘটনাচক্রে ওই অঞ্চলেই রয়েছে জেলাশাসক সহ জেলার পুলিশ সুপারদের মতো রথী-মহারথীর বাংলো। মাইকের আওয়াজ তো তাদের কানেও যাওয়া উচিত ছিল। এই ঘটনার পর সরকার ও পুলিশেরর সমন্বয়ের অভাব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নানামহলে।
রাজ্য সরকারের তরফে সোমবারই পুলিশ দিবস বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি ৮ই সেপ্টেম্বর উৎসবের পরিবর্তিত তারিখও ঘোষিত হয়ে গেছে। তারপরও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে জাতীয় শোক চলাকালীন এইভাবে তারস্বরে মাইকে গান বাজানো হচ্ছে কেন? পুলিশের তরফ থেকে এ প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি।
আইনের রক্ষাকর্তা পুলিশে যদি এভাবে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখায় তাহলে সাধারণ মানুষ কোন পথে যাবে? এ জিজ্ঞাসাও উঠে আসছে এলাকাবাসীর তরফ থেকে। যথারীতি নিরুত্তর প্রশাসন।