
শেষ আপডেট: 8 January 2023 02:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক (Madhyamik) বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রের (examination center) ভিতর পড়ুয়াদের তাণ্ডব (vandalism) এরাজ্যে পরিচিত দৃশ্য। কেন এমনটা হয়? মূলত, গোটা পরীক্ষায় ভীষণ কড়া গার্ড দিলে, যেই স্কুলে সিট পড়ে সেই স্কুল এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরে রাগের কারণেই এমনটা করে থাকে পড়ুয়ারা। মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের এহেন আচরণকে সংযত করতে আগেও নির্দেশ দিয়েছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। তাই এবার আরও কড়া হল বোর্ড।
কী বলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ?
শনিবার বোর্ড সভাপতি ডঃ রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, "প্রতিবছর একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ভাঙচুর সংক্রান্ত অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে বোর্ডের কাছে। আমরা এর আগেও পড়ুয়াদের এই আচরণ বদলানোর চেষ্টা করেছি। এবার ঠিক করা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ এলে অভিযুক্ত স্কুলের সব মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ফলপ্রকাশ স্থগিত রাখা হবে। দেওয়া হবে না মার্কশিটও।"
সভাপতি হিসেবে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমলে এটাই প্রথম পরীক্ষাগ্রহণ হতে চলেছে। ফলত এটা তাঁর জীবনেও বড় পরীক্ষা বলা যায়। রামানুজবাবু জানিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের ছবি জিও ট্যাগিং করে তুলে রাখতে হবে। পরে পরীক্ষা চলাকালীন যদি সেখানে ভাঙচুর হয়, তাহলে সেটিরও জিও ট্যাগিং ছবি তুলে বোর্ডের কাছে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলকে। দু’টি ছবি মিলিয়ে দেখে তারপরেই অভিযুক্ত স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পর্ষদ। যতদিন না ওই স্কুল ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দেবে অভিযুক্ত স্কুল, ততদিন সেই স্কুলগুলির পরীক্ষার্থীদের ফলপ্রকাশ করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভর্তির বয়স নিয়ে বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু বিভ্রাট থাকার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় কম পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণিতে। এর জেরে চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অন্যান্যবারের তুলনায় কম। তবে এই সংখ্যাটাও নেহাত মন্দ নয়। পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবছর মাধ্যমিক দিতে চলেছে। কমপক্ষে ২৯০০টি কেন্দ্রে হবে পরীক্ষা। বোর্ড জানিয়েছে, যে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি থেকে প্রতিবছর বিস্তর অভিযোগ আসে, সেখানে সিসিটিভির ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে কর্মযজ্ঞ যে বিরাট, সে কথা বলাই চলে।