দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: থিমের মণ্ডপ। কোথাও নেপালের কোনও বৌদ্ধ প্যাগোডার আদল, কোথাও বল্লাল ঢিপির আদল। তবে লক্ষ্মীপুজোর এই সব থিম পেশাদার শিল্পীদের তৈরি নয়, তৈরি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা কেউ গ্রামের ছোট ব্যবসায়ী, কেউ কলকাতায় কাজ করেন সোনার দোকানে।
হাওড়া জেলার জয়পুরের কাছে খালনায় দীর্ঘদিন ধরে বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। শহরের মতো দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আলো নিভিয়ে প্রদীপ জ্বেলে নয়, শুধুমাত্র লক্ষ্মীপুজোর জন্যই এখানে বাঁধা হয় মণ্ডপ। কলকাতায় যেমন ‘সবচেয়ে বড় দুর্গা’ হয়েছে, এই গ্রামেও গত বছর হয়েছে ৪০ ফুটের লক্ষ্মী। তবে এ বছর সবচেয়ে বড় প্রতিমা ২৫ ফুটের।
খালনার লক্ষ্মীপুজোর বেশ নামডাক আছে। লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকে শুরু হয়ে তিন দিন মেলা বসে। ঠাকুর আর মেলা দেখতে বহু দূর থেকে লোকজন আসেন এই গ্রামে, তিন দিনে কয়েক লক্ষ। গ্রামে দুর্গাপুজো হয় না বললেই চলে, এখানে যত হইচই সবই লক্ষ্মীপুজো নিয়ে।
বাংলার দুঃখ দামোদরের রোষে প্রতি বছরই বন্যা হয় হাওড়ায়। জল জমে থাকায় দুর্গাপুজোর জন্য প্রস্তুত হতে পারতেন না গ্রামের লোকজন। দুর্গাঠাকুর গড়তে সময় লাগে, খরচও অনেক। তাই জল কমলে বানভাসি গ্রাম আয়োজন করত লক্ষ্মীপুজোর, সকলে মিলে পুজো, তাই বারোয়ারি। এ ভাবেই দেড়শো বছরেরও বেশি আগে খালনায় শুরু হয়েছিল বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো। এখন পুরো গ্রামে অন্তত ৭০টি বারোয়ারি পুজো হয়।
খালনার লক্ষ্মীপুজোয় যাতে কোনও ভাবে আইনশৃঙ্খলার কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন হাওড়ার পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সৌম্য রায়।
আমতা দু'নম্বর ব্লকের খালনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাজার কুড়ির বসবাস। বাগনান- জয়পুর রাস্তার মোষগলি থেকে গড়ামোষ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা, এই রাস্তা বরাবর ছোট-বড় মিলিয়ে মোটামুটি ৭০টি পুজো হয়। তাদের মধ্যে যেগুলির বাজেট একটু বেশি তারাই থিমপুজো করে। সঙ্গে মানানসই প্রতিমা। অধিকাংশ প্রতিমাই তৈরি হয় গ্রামে, কয়েকটা প্রতিমা আনা হয় কলকাতার কুমোরটুলি থেকে। মাইক ও আলোকসজ্জা ভাড়া আসে মেদিনীপুর থেকে।
খালনার খুদিরায় কোহিনুর ক্লাব এবার ১৫৩ বছরে, থিমের মণ্ডপ তৈরি হয় বাঁধানো চাতালে। এবার তাদের থিম ‘দূষণ-উষ্ণায়ন আর নয়, হোক সবুজের জয়’। জলের অপব্যবহার নিয়ে সচেতন করতেও তারা উদ্যোগী হয়েছে।
মিতালি সঙ্ঘের এবারে থিম ‘নেপালের বৌদ্ধ মন্দির’, খালনা রাজবংশীপাড়া পরিচালিত পুজোর থিম ‘কালীয়দমন’। খালনা আমরা সকল সঙ্ঘে থিম ‘বল্লালঢিপি’।
এতগুলো পুজোর মধ্যে সেরা কে তা বেছে দেবে আমতা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি। তারা এ বছর পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে।
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%81-%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%90%e0%a6%b6-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c-2/