দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া মাছ বাজার বাজারে খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশসূত্রে খবর, দেশে জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক গণ্ডগোলের জেরেই কাকার হাতে ভাইপো খুন হয়েছে। ধৃত কাকা সুরেন্দ্র রাইকে (ওরফে সুরিন্দর রায়) আজ হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১২ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
হাওড়া মাছ বাজারের ৩১ নম্বর স্টল থেকে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ সোমবার একটি দেহ উদ্ধার করে। ছোটন রাই নামে হাওড়া স্টেশনের এক মজদুরকে ওই স্টলেরই কর্মী সুরেন্দ্র রাই খুন করে ফ্রিজের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই এই খুন। গোলাবাড়ি থানার পুলিশ গ্রেফতার করে সুরেন্দ্রকে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ছোটন রাই সম্পর্কে সুরেন্দ্রর ভাইপো। তারা বিহারের মজফফরপুরের শাকরা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন পরিবারের মধ্যে জমি জমা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে গণ্ডগোল চলছিল। কিছুদিন আগে হাওড়া স্টেশনে ছোটনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত রবিবার কালীপুজোর দিন মাছ বাজার বন্ধ থাকায় লোকের আনাগোনা তেমন ছিল না। সেই সুযোগেই সুরেন্দ্র তার ভাইপোকে দোকানে ডাকে। তারা মদ্যপান করে দোকানের ওপরের অংশে। তারপর নিজেদের মধ্যে হঠাৎ বচসা শুরু হলে সুরেন্দ্র তার মাথায় ভারী বাটখারা দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ভাইপো। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ওই দেহটিকে মাছের ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখে প্রমাণ লোপাটের জন্য। তবে সোমবার সকালে দোকানের মালিক সুনীল সিং এলে তাকে ঘটনার কথা খুলে বলে সুরেন্দ্র। মালিক গোটা ঘটনাটা গোলাবাড়ি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে সুরেন্দ্রকে গ্রেফতার করে।
ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফ্রিজটি সাময়িক ভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
এই খুনের ঘটনায় আতঙ্কিত মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা আরও বেশি পুলিশি নিরাপত্তা চাইছেন। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি নর্থ ওয়াই রঘুবংশ জানিয়েছেন, প্রায় আট ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেইসব ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্ত করতে মঙ্গলবারও ঘটনাস্থলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা যান। অন্য ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন দেখেন।