
শেষ আপডেট: 11 June 2019 18:30
এনআরএস-এ ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহম্মদ সাহিবের মৃত্যুতে প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদ ঘিরে ক্ষোভের যে আগুন জ্বলেছিল তা ক্রমশই বাড়ছে শহর থেকে জেলায়। এনআরএস তো বটেই, পিজি, এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্য়াল, আর জি কর-সহ কলকাতার নানা প্রান্তের হাসপাতালগুলির বাইরে রাস্তায় শুয়ে, বসে অপেক্ষা করছেন রোগীরা। পিজি হাসপাতাল চত্বরে মঙ্গলবার থেকেই অপেক্ষারত মহম্মদ ইসলাম, রহমত আলি। আট বছরের রহমতের মাথায় গুরুতর চোট। সিটি স্ক্যান করতে হবে। কিন্তু ইমার্জেন্সি বন্ধ থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: গুন্ডামি, প্রতিবাদ, ভোগান্তি– এর শেষ কোথায়! ফের প্রশ্ন তুলে দিল এনআরএস
পিজি-র ডাক্তার তথা আন্দোলনের মুখ ওঙ্কার দে সরকার বলেছেন, "আমরা ইমার্জেন্সি বিভাগ বন্ধ রাখিনি। শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছি। রোগীদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়েই দেখা হবে।" ডাক্তারবাবুর কথার পরেও দেখা যায় ইমার্জেন্সি বিভাগের দরজা বন্ধ, বাইরে পোস্টার ঝুলছে, আর দরজার বাইরে চাদর বিছিয়ে বসে রয়েছেন রোগীরা। এই প্রসঙ্গে ডাক্তারবাবু জানান, "কী ভাবে এবং কেন ইমার্জেন্সি বিভাগের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে তার সঠিক তথ্য নেই। তবে আমরা এই কাজ করিনি।"
দশ বছরের ছেলেকে নিয়ে পিডি-র ইমার্জেন্সির বাইরে ঠাঁই হয়েছে মহম্মদ নাসিমের। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। ইমার্জেন্সি খোলা রাখার কথা বললেও কার্যত তা বন্ধ। পরিষেবা নেই আউটডোরেও।
[caption id="attachment_113480" align="aligncenter" width="702"]
হাহাকার রেহেনার পরিবারের[/caption]
মঙ্গলবার থেকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা চলছে। ডাক্তারদের বিক্ষোভে বন্ধ সমস্ত পরিষেবা। বাইক অ্যাক্সিডেন্টে গুরুতর জখম বছর পনেরোর রেহেনা খাতুন আট দিন ধরে ভর্তি নওদার একটি হাসপাতালে। তাঁর মা জানিয়েছেন, গতকাল থেকে কোনও ডাক্তারই দেখতে আসেননি মেয়েকে। উল্টে কর্মবিরতির কারণে নার্সেরা দুর্ব্যবহার করছেন। মেয়ের অবস্থাও খারাপ হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায়। বড় বিপদের আশঙ্কায় হাহাকার করছেন রেহেনা পরিবারের লোকজন।
চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যু, অথবা ডাক্তারদের অবহেলার অভিযোগ আগেও বহুবার উঠেছে। সেই অভিযোগকে হাতিয়ার করে ডাক্তার-নিগ্রহের ঘটনাও অজস্র। এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের উপর যে নির্যাতন চলেছে সে দিক থেকে ডাক্তারদের রাগ-ক্ষোভের কারণ প্রাসঙ্গিক। কিন্তু, সেই রাগ, ক্ষোভ যদি এক অন্ধ বিপ্লবের আকার নিয়ে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাটাকে ছাড়খাড় করে দেয় সেটা কোনও মতেই কাম্য নয়। পীড়িত, যন্ত্রণায় কাতর, মৃত্যু পথযাত্রীদের দায়িত্ব তাহলে কে নেবে? আন্দোলনকারীরা নাকি প্রশাসন? উত্তরটা বোধহয় এখনও অজানা।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-bengal-doctors-strike-worsens-shutdown-at-hospitals-statewide/