দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের বন্যাত্রাণে দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের (HighCourt) তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল রাজ্য সরকারকে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ কার্যত তুলোধনা করে রাজ্যকে।
এদিন আদালত বলেছে, এত দিন কি প্রশাসন ঘুমোচ্ছিল? এখন মামলা হয়েছে বলে জেগে উঠে কিছু করছে? ২০১৯ সালে যদি পদক্ষেপ করতেন তাহলে মামলাই হতো না। তখন জেগে ওঠেননি কেন? এই মামলা যদি না হতো তাহলে তো এটা এত দিনে হিমঘরে চলে যেত। রাজ্য দুর্নীতির অভিযোগ মেনে নিলেও এখনও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী। সিবিআই তদন্তের দাবি করেন তিনি। কিন্তু অ্যাডভোকেট জেনারেল বিরোধিতা করেন। যা নিয়ে বিরক্ত আদালত। ১১ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
ঘটনা কী?
২০১৭ সালে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল মালদহে। সেই সময়ে মালদহের একাধিক ব্লকের জন্য মোট ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তার মধ্যে বড়ই ব্লকের জন্য ১০ কোটি বরাদ্দ হয়েছিল। কথা ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত ক্ষতিপূরণের টাকা দেবে। অভিযোগ, একটি অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টেই বারবার টাকা ঢুকেছে বলে অভিযোগ।
এবছর জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানি এর আগে হয়েছিল। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে প্রশ্ন করে, সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, শোকজ ও নোটিস জারি করা হয়েছে। কিছু টাকাও উদ্ধার হয়েছে।
তখন প্রধান বিচারপতি ফের প্রশ্ন করেন, এটুকুই পদক্ষেপ? একটা পঞ্চায়েতে এই অবস্থা হলে সারা জায়গায় কী হচ্ছে? কোনও গ্রেফতার হয়েছে কি? এই অপরাধে তো ৪০৯ ধারায় যাবজ্জীবন শাস্তি হয়।
যে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার প্রধান সোনামুখী সাহার বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে আগেই। তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি তা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত।