
শেষ আপডেট: 18 October 2023 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: বটতলায় মহিলা খুনের কিনারা করে ফেলল পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে লাভা থেকে গ্রেফতার করা হল। অভিযুক্তের নাম সৌমিক চট্টোপাধ্যায়।
গত ১১ অক্টোবর বটতলা থানার হেদুয়া পার্কের কাছে রাজাবাগান স্ট্রিটের বাড়িতে খুন হন মীনাক্ষী ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা। মীনাক্ষী দেবীর ১৫ বছরের ছেলে গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপরেই পুলিশ তদন্ত নামে। খুনের কায়দা দেখেই পুলিশের অনুমান ছিল ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েই খুন হয়েছেন মীনাক্ষী।
পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে সৌমিক চট্টোপাধ্যায় নামে ওই যুবক মাঝে মধ্যে ওই মহিলার বাড়িতে আসত। তার সঙ্গে মীনাক্ষীর স্বামীরও আলাপ ছিল। এরপরেই সৌমিকের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে জানতে পারে সে বাড়িতে নেই। বাইকের নম্বর নিয়ে সৌমিকের সন্ধান শুরু করে। জানা যায়, লাভার একটি হোটেলে রয়েছে ওই যুবক। সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সৌমিককে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, মীনাক্ষীর সঙ্গে সৌমিকের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মীনাক্ষীর সঙ্গে ওই যুবকের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে দুজনেই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। ২০২০ সালে সৌমিকের বিয়ে হয়। তার ফলে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দুবছরের মধ্যে সৌমিকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
ফের মীনাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সৌমিক। কিন্তু সেই সময় সৌমিককে তেমন পাত্তা দেয়নি ওই মহিলা। সন্তানের কারণেই তিনি সৌমিকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করেন। প্রেমের পথের কাঁটা সরাতে মীনাক্ষীর ছেলেকে খুনের পরিকল্পনা করে সৌমিক। ঘটনার দিন মীনাক্ষীর নাবালক ছেলেকে খুন করতে গিয়েছিল ওই যুবক। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েই মীনাক্ষী খুন হন।
এদিকে মীনাক্ষীকে খুন করার পরে প্রাক্তন স্ত্রী ও তাঁর দ্বিতীয় স্বামী ও সন্তানকে খুন করার পরিকল্পনা করে সৌমিক। তাই সে বাইক চালিয়ে লাভাতে পোঁছয়। কয়েকদিন লাভায় আত্মগোপন করে শিলিগুড়িতে আসার পরিকল্পনা ছিল সৌমিকের। তবে সেই ছক ভেস্তে যায়। ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।