
শেষ আপডেট: 24 January 2020 08:34
প্রথমে পাঁপড় ও পরে কাপড়ের ব্যবসা করে সংসারে কিছুটা হলেও আয়ের মুখ দেখেছেন গোবিন্দ সেন। তাই বা কত! মেরে কেটে হাজার দশেক টাকা। সংসারে সব মিলিয়ে পাঁচজন। বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী ও ছেলে। স্ত্রী মিলি সংসার চালানোর পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন, তাতে সামান্য যা আয় হয় সেটি তিনি গোবিন্দর গাতেই তুলে দেন। সাইকেলে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চুড়িদার-নাইটি বিক্রি করেন গোবিন্দ। কখনও বাদকুল্লা থেকে ট্রেনে চেপে মুর্শিদাবাদে গিয়েও নাইটি বিক্রি করেন।
অভাবের সংসারেও ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াচ্ছেন। তারপরে যেটুকু যা বাঁচে সেই টাকায় তিনি শখ মেটান – শখ বলতে সমাজসেবা করা। যাঁদের আর্থিক অবস্থা তাঁর চেয়েও খারাপ, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। যাঁরা টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারেন না তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। শীতের আগে বিতরণ করেন শীতবস্ত্র। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। এজন্য তিনি অন্য কারও কাছ থেকেই আর্থিক সাহায্য নেন না।
না, এজন্য তিনি কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেননি। ম্যারাপ বেঁধে মাইক লাগিয়ে এলাকার জনা চারেক নেতাকে ডেকে তাঁদের হাতে ফুলের বোকে তুলে দিয়ে এই কাজ তিনি করেন না। কাঁধে করে কম্বল নিয়ে ফেরি করার স্টাইলে তা বিতরণ করেন যাঁদের সত্যিই দরকার আছে তাঁদের মধ্যে। প্রথমে বছরে জনা চল্লিশের লোককে দান করতেন, এবছর ৯০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন, তাঁদের কম্বল দিয়েছেন।
গোবিন্দ সেনের জীবনের আদর্শ বিবেকানন্দ। শিব জ্ঞানে তিনি মানুষের সেবা করেন। তাঁর স্ত্রীও সানন্দে নিজের রোজগার তুলে দেন স্বামীর হাতে। এঁদের কথা ভেবেই বোধহয় মধুকবি বলেছেন, -- দীন যে দীনের বন্ধু!