Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

টাকা বাঁচিয়ে গরিবদের সেবা করেন দরিদ্র ফেরিওয়ালা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আব্দুল হাবিব ইউসুফ মারফানির নাম শুনেছেন? ২৩ জানুয়ারিতেও তাঁর নাম সেভাবে শোনা গেল না। নিজেকে নিঃশেষ করে নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজে এক কোটি টাকা দান করেছিলেন গুজরাটের এই ব্যবসায়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই অঙ্কটা মোটেই কম ছিল

টাকা বাঁচিয়ে গরিবদের সেবা করেন দরিদ্র ফেরিওয়ালা

শেষ আপডেট: 24 January 2020 08:34

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আব্দুল হাবিব ইউসুফ মারফানির নাম শুনেছেন? ২৩ জানুয়ারিতেও তাঁর নাম সেভাবে শোনা গেল না। নিজেকে নিঃশেষ করে নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজে এক কোটি টাকা দান করেছিলেন গুজরাটের এই ব্যবসায়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই অঙ্কটা মোটেই কম ছিল না। তিনি দান করেছিলেন নিজেকে নিঃশেষ করে। তাই অনেক বড় অঙ্কের দানের চেয়ে তাঁর দান অনেক বেশি উজ্জ্বল। সবার অলক্ষে নিঃশেষে দান করেন নদিয়ার বাদকুল্লার অঞ্জনগড় এলাকার গোবিন্দ সেন। সংসারে তাঁর বেশ অভাব, তবুও সাধ্যের বাইরে গিয়ে তিনি দান করেন। সমাজকে দেন নিজেকে নিঃশেষ করে। পেশায় তিনি ফেরিওয়ালা, তাঁর স্ত্রী সেলাই-ফোঁড়াই করেন। সব মিলিয়ে সংসারে আয় হাজার দশেক টাকা। তা থেকে টাকা বাঁচিয়েই প্রতিবছর একটি বিশেষ দিনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা ও শীতবস্ত্র দান করছেন গোবিন্দ সেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল সমাজসেবা করার কিন্তু কোনও দিনই তেমন রোজগার ছিল না, তাই স্বপ্নটা মনেই রয়ে গিয়েছিল। প্রথমে পাঁপড় ও পরে কাপড়ের ব্যবসা করে সংসারে কিছুটা হলেও আয়ের মুখ দেখেছেন গোবিন্দ সেন। তাই বা কত! মেরে কেটে হাজার দশেক টাকা। সংসারে সব মিলিয়ে পাঁচজন। বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী ও ছেলে। স্ত্রী মিলি সংসার চালানোর পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করেন, তাতে সামান্য যা আয় হয় সেটি তিনি গোবিন্দর গাতেই তুলে দেন। সাইকেলে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চুড়িদার-নাইটি বিক্রি করেন গোবিন্দ। কখনও বাদকুল্লা থেকে ট্রেনে চেপে মুর্শিদাবাদে গিয়েও নাইটি বিক্রি করেন। অভাবের সংসারেও ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াচ্ছেন। তারপরে যেটুকু যা বাঁচে সেই টাকায় তিনি শখ মেটান – শখ বলতে সমাজসেবা করা। যাঁদের আর্থিক অবস্থা তাঁর চেয়েও খারাপ, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। যাঁরা টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারেন না তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। শীতের আগে বিতরণ করেন শীতবস্ত্র। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। এজন্য তিনি অন্য কারও কাছ থেকেই আর্থিক সাহায্য নেন না। না, এজন্য তিনি কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেননি। ম্যারাপ বেঁধে মাইক লাগিয়ে এলাকার জনা চারেক নেতাকে ডেকে তাঁদের হাতে ফুলের বোকে তুলে দিয়ে এই কাজ তিনি করেন না। কাঁধে করে কম্বল নিয়ে ফেরি করার স্টাইলে তা বিতরণ করেন যাঁদের সত্যিই দরকার আছে তাঁদের মধ্যে। প্রথমে বছরে জনা চল্লিশের লোককে দান করতেন, এবছর ৯০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন, তাঁদের কম্বল দিয়েছেন। গোবিন্দ সেনের জীবনের আদর্শ বিবেকানন্দ। শিব জ্ঞানে তিনি মানুষের সেবা করেন। তাঁর স্ত্রীও সানন্দে নিজের রোজগার তুলে দেন স্বামীর হাতে। এঁদের কথা ভেবেই বোধহয় মধুকবি বলেছেন, -- দীন যে দীনের বন্ধু!

```