মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া : সোমবার সকালেও মাথার উপর নিজেদের ছাদ ছিল। ছাদ শুধু নয়, পেল্লাই দোতলা বাড়ি। আর মঙ্গলবার সকালে তাঁরা আশ্রিত। পড়শির ঘরে। তখন আলো ফুটছে সবে। নির্ঘুম রাত কাটানো মুখার্জি পরিবারের মুখেও পড়ছে সেই আলো। কিন্তু কোনও সকাল যে এতটা অন্ধকার হতে পারে তা যেন এই প্রথম দেখলেন পরিবারের তিন সদস্য।
সোমবার বেলা এগারোটা নাগাদ গন্ধেশ্বরী নদীর জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়ার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী শুধাংশু মুখার্জির বসত ভিটে। বাড়িতে তখন ছিল তাঁর মেয়ে ও স্ত্রী। তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় দুই যুবক। তারপর থেকেই প্রতিবেশীর ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন মুখার্জি পরিবার। বাড়িতে থাকা সমস্ত জিনিস গন্ধেশ্বরীর খালের গর্ভে। শোকে উদ্বেগে আতঙ্কে তাই দিশাহারা গোটা পরিবার। বাড়ির কর্তা শুধাংশু বাবু জানান, রাতারাতি সব হারিয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে দুজনেই বাক্যহারা। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে দুজনেই। মেয়ে দেবদত্তা স্থানীয় কালীতলা গার্লসের ছাত্রী। পড়াশোনায় ভাল ছাত্রী। বইপত্র সব ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। কী ভাবে চলবে পড়াশোনা তা ভেবেই অস্থির হয়ে গিয়েছে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
https://www.youtube.com/watch?v=wLjSW301N7w
শুধাংশুবাবুর অভিযোগ, শুধু উদ্ধার কাজ চালানো ছাড়া প্রশাসনের তরফে আর কোনও সাহায্য করা হয়নি তাঁদের পরিবারকে। এখন মাথা তুলে আবার দাঁড়াতে পারবেন কবে সেই চিন্তাই গ্রাস করেছে তাঁকে। আর প্রতিবেশীরা আতঙ্কিত তাঁদেরও এমন রাতারাতি এসে দাঁড়াতে হবে না তো রাস্তায়। কারণ বাড়ি লাগোয়া খাল দিয়ে জল নদীতে যাওয়ার বদলে যে উল্টে নদীর জল এসেই এমন করে পাড়া ভাসায়। নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টিতে রবিবার থেকেই জলের নীচে গোটা পাড়া। অনেককেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ আস্তানায়। তবে এখনও পর্যন্ত বাড়িঘর অক্ষত রয়েছে তাঁদের।