
শেষ আপডেট: 13 August 2023 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর (Swapnadeep Kundu) মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি (Jadavpur student death)। র্যাগিং-এর জেরেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যেই কলকাতার উপকণ্ঠেই নামী একটি স্কুলে নবম শ্রেণির এক পড়ুয়াকে র্যাগিং করার অভিযোগ উঠল উঁচু ক্লাসের দাদাদের বিরুদ্ধে (Habra school ragging)। ঘটনার অভিঘাত এমনই, যে, গভীর রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির মধ্যে হস্টেলের পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল ওই ছাত্র (class 9 student escaped)। শেষমেশ যদিও তাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে নৈশ প্রহরীরা।
ওই ছাত্রের নাম সাব্বার হোসেন। সে বাদুড়িয়া থানার মাদ্রা এলাকার বাসিন্দা। সাব্বার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাণীপুর জহর নবোদয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়া (JNV Habra)। স্কুলেরই হস্টেলে থাকত সে। অভিযোগ, গত বেশ কয়েকদিন ধরেই উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা তার উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল। জ্যামিতি বক্সের কাঁটা কম্পাস দিয়ে তার শরীরে আঘাত করার পাশাপাশি ওই পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীত ছাত্র আরও জানিয়েছে, 'দাদা'দের কথা অনুযায়ী জল না এনে দেওয়ার জন্য মেরে তার মুখ লাল করে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা নিচু ক্লাসের ছাত্রদের বাড়ি থেকে আনা খাবার-দাবার সমস্ত কিছু খেয়ে নিত, কারণে-অকারণে মারত, বাবা মার নাম করে অকথ্য গালাগাল দিত, হাউসের ভিতরেই ধূমপান করত। বারণ করলে পাল্টা মারধর এবং ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত বলে জানিয়েছে ওই ছাত্র।
ভিজতে ভিজতে ১০ কিলোমিটার হাঁটার পর হাবড়া থানার কুমড়া বাজার এলাকার নৈশ প্রহরীদের চোখে পড়ে কিশোরকে। তাকে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সব কথা খুলে বলে সাব্বার। এরপরেই তার বাড়িতে এবং হাবড়া থানায় খবর দেন ওই নৈশ প্রহরীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। বাড়ির লোক আসতেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কিশোরকে।
ঘটনা জানাজানি হতেই স্কুল ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওই নৈশ প্রহরীরা দাবি করেছেন, তাঁরা না খেয়াল করলে কিশোরের বড় বিপদ হতে পারত। যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে যখন শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়েই আলোড়ন ফেলে দিয়েছে, তখন কীভাবে র্যাগিং-এর শিকার হয়ে একটি ছেলে সকলের অলক্ষ্যে পাঁচিল টপকে বেরিয়ে এসে দশ কিলোমিটার পথ চলে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার বিষয়ে নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল আলো আচার্যের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেননি। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
যাদবপুরের হস্টেলে এবার ‘চুরি’, খোয়া গেল ল্যাপটপ-মোবাইল! নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন