দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠাননেও সরকার-রাজ্যপাল সংঘাত। এতদিন যা বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এদিন দেখা গেল সম্মুখ সমর। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে দাঁড় করিয়ে ধমক দিলেন জগদীপ ধনকড়।
এদিন ব্যারাকপুর গান্ধী ঘাটে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। অনুষ্ঠান চলাকালীন দেখা যায় প্রথম সারিতে বসে খবরের কাগজের পাতা ওল্টাচ্ছেন মনোজ বর্মা। মঞ্চ থেকে নেমেই ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে তীব্র ধমক দেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।
রাজ্যপাল বলেন, "আপনি পুলিশ কমিশনার। আপনিই প্রথম সারিতে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন? এটা কী ধরনের আচরণ? আপনারা থাকেন কোথায়? লজ্জা হওয়া উচিত। উর্দি পরে আপনি যদি এটা করেন তাহলে অন্যরা আপনাকে দেখে কী শিখবে?"
এখানেই থামেননি রাজ্যপাল। তিনি বলেন, "আপনি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর শীর্ষ কর্তা। কিন্তু আপনার কাজকর্ম দেখে তো সে সব বোঝাই যাচ্ছে না।" এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তোপ দাগেন রাজ্যপাল ধনকড়। উগরে দেন তীব্র ক্ষোভ। বলেন, "আজ গান্ধীজির প্রয়াণ দিবস। এই দিন অহিংসার দিন। সেখানে রাজ্যজুড়ে হিংসা চলছে। রাজ্যের কোথাও আইন বলে কিছু নেই। পুলিস প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে।"
যখন রাজ্যপাল চড়া গলায় মনোজ বর্মাকে এসব বলছেন, দেখা যায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন ব্যারাকপুরের নগরপাল। প্রায় দু'মিনিট ধরে টানা বলে যান রাজ্যপাল। তারপর স্ত্রীকে নিয়ে উঠে যান গাড়িতে।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মঞ্চে রাজ্যপালকে যখন হাত জোড় করে নমস্কার করেন মন্ত্রী ও আমলারা তখন তার কোনও উত্তরই দেননি বা পাল্টা সম্বোধন করেননি রাজ্যপাল। এতেই অপমানিত বোধ করেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেববাবু এবং স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।