
শেষ আপডেট: 9 September 2023 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে মধ্যরাতে বাংলার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল রাজভবন। শনিবার ফের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor CV Ananda Bose) হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, ‘আজ মধ্যরাতে কী করি দেখুন?’
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজভবন ও রাজ্য সরকারের কাজিয়া এখন নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল (Governor CV Ananda Bose) দাবি করেছিলেন, তিনি যাঁদের উপাচার্য পদে নিয়োগ করছেন, তাঁদের শিক্ষা দফতর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এও বলেছিলেন, রাজ্য সরকার যাঁদের উপাচার্য পদে মনোনীত করেছিল তাঁদের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি রাজ্যপাল। শুক্রবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বিশ্ববিদ্যালয়গুলির রেজিস্ট্রারদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন। অভিযোগ হল, বহু রেজিস্ট্রারকে সেই বৈঠকে যোগ দিতে বাধা দিয়েছে রাজভবন। এ হেন পরিস্থিতি শুক্রবার ব্রাত্য বলেছিলেন, রাজ্যপাল পুতুল খেলা খেলছে। রাজ্যপালকে মহম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শনিবার তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইতে, রাজ্যপাল মধ্যরাতের পদক্ষেপের কথা বলেন। তার পরই কৌতূহল তৈরি হয়েছে, নতুন কী বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছেন রাজ্যপাল!
এদিন সল্টলেকে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যপাল আরও বলেন, “আমার কাজ হল উপাচার্য নিয়োগ করা। তা আমি করে যাব।” এর আগে মধ্যরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্যের সরকারকে এড়িয়ে রাজ্যপাল এভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন কিনা, প্রশ্ন উঠেছিল তা নিয়েও। এরপরও গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কৃষ্ণনগরের কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তিকালীন উপাচার্য হিসাবে অধ্যাপক কাজল দে-কে নিয়োগ করেন রাজ্যপাল।
শিক্ষা দফতরের এক প্রাক্তন আমলার কথায়, ব্যাপারটা আর বিস্ফোরণের স্তরে নেই। তা আতসবাজিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা দফতরে অন্ধকারে রেখে রাজ্যপাল যেভাবে এক তরফা উপাচার্য নিয়োগ করছেন তা ঠিক নয়। আবার শিক্ষা দফতরও যাঁদের মনোনীত করছেন তাঁদের নিয়ে রাজ্যপালের আপত্তি অসঙ্গত নয়। রাজ্যপাল ও শিক্ষা মন্ত্রী বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে এর মীমাংসা করে নেওয়াই ভাল। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, রাজ্যপালেরও বিষয়টি রাজনৈতিক অভিপ্রায় রয়েছে। তাঁর কথায় বার্তায় রাজ্য সরকার খাটো করে দেখানোর প্রবণতা কাজ করছে। যা বিরোধ-মীমাংসার ভাষা নয়।
আরও পড়ুন: ধূপগুড়ির হারের কারণ খুঁজতে রাজ্যে শাহী ‘দূত’, ভোটারদের মন কেন জয় করতে পারল না বিজেপি