
শেষ আপডেট: 27 September 2022 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (school service commission ) মাধ্যমে যাঁরা ব্যতিক্রমী ভাবে চাকরি পেয়েছেন, বা যাঁদের মেধা তালিকার ক্রম ভেঙে চাকরি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কারও চাকরি বাতিলের পক্ষে নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার (government)। মঙ্গলবার এ কথাটা পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী (Education Minister) ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালতই।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাত্য বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না কোনও ব্যক্তির কাজ চলে যাক। কারণ, তাতে তাঁরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়, তাঁদের পরিবারের উপরে বিপর্যয় নেমে আসবে। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও চান না যে কোনও যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হোক। তাই কেউ যাতে বঞ্চিত না হন সেজন্য ৫২৬১ টি শূন্য পদ তথা সুপার নিউমেরি পদ তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে এসএসসি-র তরফে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তা হল, ব্যতিক্রমী ভাবে বা মেধা তালিকার র্যাঙ্ক জাম্প করে কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বা যাঁরা ওয়েট লিস্টে রয়েছেন তাঁদের সকলকে চাকরি দিতে সরকার প্রস্তুত। এ জন্য সরকারকে আনুমানিক ৩ হাজার গ্রুপ সি পদ ও ৯ হাজার গ্রুপ ডি পদ তৈরি করতে হবে। তা ছাড়া নবম দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ৩ হাজার ও আড়াই হাজার শিক্ষকের শূন্য পদ তৈরি করতে হবে।
প্রশ্ন হল, ব্যতিক্রমী ভাবে (পড়ুন সুপারিশের ভিত্তিতে বা মেধা তালিকার ক্রম ভেঙে) কত জন চাকরি পেয়েছিলেন? শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তাঁদের হিসাবে ৯৫৭ গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে এভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আপাতত ২২২। এই ধরনের আরও কিছু আছে কিনা খতিয়ে দেখছে কমিশন।
ধর্না থেকে উঠে পুজো পরিবারের সঙ্গে কাটান, এসএসসির প্রার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য
পাশপাশি ব্রাত্য জানান, হাইকোর্টে একটি দ্বিতীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তা হল, মহামান্য আদালত যদি চায় ব্যতিক্রমী ভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল করে ওয়েট লিস্টে থাকা ও মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে, তা হলে সরকার সেই নির্দেশও মানতে রাজি। সে ক্ষেত্রে সরকার মেধা তালিকার ক্রম ধরে নিয়োগে প্রস্তুত।
ব্রাত্যর এদিনের সাংবাদিক বৈঠকের পর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সরকার জানে ব্যতিক্রমী ভাবে পাওয়া অর্থাৎ টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল হলে তৃণমূলের অনেক নেতা-মন্ত্রীর কলারে হাত পড়বে। তাঁদের বাড়ি ঘেরাও হবে, রাস্তাঘাটে হেনস্থাও হতে পারেন। সেই কারণেই তাঁদের চাকরি বাঁচাতে এখনও মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে আদালতের উপর আমাদের ভরসা আছে।