মহিষাদলে গয়না বড়ির প্রতিযোগিতা! ঐতিহ্য রক্ষায় দারুণ এক আয়োজন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়ির মধ্যেই গয়নার সূক্ষ্ম কারুকার্য। বিউলির ডাল, পোস্ত বেটে নানান মশলার মিশেল পাউচে ভরে হাত ঘুরিয়ে চলেন মহিলারা। তাতেই রূপ পায় গয়না বড়ি। অনেকে আবার বলেন নকশা বড়ি। তবে সে বড়ির স্বাদ যিনি খেয়েছেন তিনিই জানেন। শীতের
শেষ আপডেট: 13 December 2021 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়ির মধ্যেই গয়নার সূক্ষ্ম কারুকার্য। বিউলির ডাল, পোস্ত বেটে নানান মশলার মিশেল পাউচে ভরে হাত ঘুরিয়ে চলেন মহিলারা। তাতেই রূপ পায় গয়না বড়ি। অনেকে আবার বলেন নকশা বড়ি। তবে সে বড়ির স্বাদ যিনি খেয়েছেন তিনিই জানেন। শীতের দুপুরে ডালের সঙ্গে মুচমুচে গয়না বড়ি পাতে পড়লে দিনটাই যেন বদলে যায়!
আগে শীত এলেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে বড়ি শুকোত। তবে এখন সেই ছবি বিরল। যত্ন করে বড়ি দেওয়া দূরস্থান, গয়না বড়ির নকশা তোলার সময় কই? তবে এই গয়না বড়িই যে পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্য, সেইসঙ্গে বাংলার অন্যতম প্রাচীন শিল্পও এটি। তাই গয়না বড়ি বাঁচিয়ে রাখতে জোরদার উদ্যোগ নিল মহিষাদল বিশ্বকলা কেন্দ্র। পূর্ব শ্রীরামপুর গ্রামে আয়োজন করা হল এক গয়না বড়ি প্রতিযোগিতার।

সকাল থেকেই বড়ির আলপনায় উঠোন ভরল। মহিলারা একসঙ্গে হয়ে আনন্দ করে বড়ি দিলেন। অংশ নিয়েছিলেন ৪০ জন মহিলা। নতুন প্রজন্মকে উৎসাহী করতে গয়না বড়ির নকশা কী ভাবে তুলতে হয় তার প্রশিক্ষণও হল সেই শিবিরেই।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর সর্বাধিনায়ক সতীশ চন্দ্র সামন্তের ১২২ তম জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানা যায়।
পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের দাবি, গয়না বড়ি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। ২০১৬ সালে আই আই টি খড়গপুর গয়না বড়ির ভৌগোলিক উপদর্শন শংসাপত্রের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মহিষাদলের মানুষ চান, শীঘ্রই জি আই স্বীকৃতি পাক এই বড়ি।

জি আই স্বীকৃতি পূর্ব মেদিনীপুরের মুকুটে আসে কিনা সেটা দেখাই যাক। তবে এখনকার সময়ে গয়না বড়ি যেখানে লুপ্ত হতে বসেছিল, এই আয়োজনের পর আবার স্বমহিমায় ফিরে আসতে পারে। আশা রাখা যায়, আগামী দিনে গয়না বড়ির শৈল্পিক স্বাদ ফের জায়গা করে নেবে বাঙালির রসনায়। সেইসঙ্গে স্বনির্ভরতার দিশা দেখাবে প্রান্তিক নারীদেরও।