
শেষ আপডেট: 30 November 2022 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট করাতে গিয়ে দালাল চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন অনেকেই। টাকাও খুইয়েছিলেন। শেষমেশ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়া দালাল চক্রের (Frauds Arrested) জাল কাটল পুলিশ। বুধবার দুই দালালকে হাতে-নাতে ধরে ফেলল তারা।
কয়েকদিন আগে গাঙ্গুলি ডাঙার বাসিন্দা মানোয়ারা বিবি নিজের জন্য প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট করাতে গিয়েছিলেন কাটোয়া হাসপাতালে (Katwa Hospital)। তখন তিনি দুজন দালালের ফাঁদে পা দেন বলে অভিযোগ।
মানোয়ারার অভিযোগ করেন, ওই দিন গোপাল দাস ও বাসুদেব দাস নামে দুই প্রতারকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তাঁরা হাসপাতালের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। মানোয়ারাকে বলে, প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট বের করে দেবে। এরপর মানোয়ারার কাছ থেকে দু'বারে এক হাজার টাকা নেয় তারা। সেইসঙ্গে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সার্টিফিকেট জোগার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তাঁদের কথা মতো বুধবার হাসপাতালে গিয়েছিলেন মানোয়ারা। কিন্তু গোপাল ও বাসুদেব জানায়, সার্টিফিকেট তৈরি হয়নি। তারা আরও পাঁচশো টাকা দাবি করে । তাতে সন্দেহ হয় মানোয়ারার। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, ওই দু'জন দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে।
দাউদাউ জ্বলছে ডোমজুড়ের তুলোর গুদাম, একদিনে হাওড়ায় পরপর বিধ্বংসী আগুন
শুধু মানোয়ারাই নন, ওই দুই প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়েছেন আরও অনেকেই। তাদের মধ্যে মঙ্গলকোটের খুঁড়তুবা গ্রামের আনাইল সেখ ও কেতুগ্রামের বিষ্ণুপুর গ্রামের রাজু প্রামানিকও রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকেও সার্টিফিকেটের করিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়েছে এই দু'জন।
মানোয়ারা ও তাঁর পরিবারের লোকজন, বিষয়টি নিয়ে থানার দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে হাসপাতাল চত্বরে অভিযান চালায় পুলিশ। হাতে-নাতে ধরে ফেলে দুই অভিযুক্তকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কাটোয়ার ঘুটকিয়া পাড়ায় গোপালের বাড়ি। বাসুদেব হরিপুরের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার সৌভিক আলম জানান,অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হাসপাতালের কোনও বিভাগেরই কর্মী নন। দীর্ঘদিন ধরে এই দালাল চক্র চলছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে আগেই অভিযোগ জানানো হয়েছিল। বুধবার পুলিশ তাদের হাতেনাতে ধরেছে।