শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ, সালিশি সভায় না যাওয়ায় মেয়ের বাড়ির হামলায় মৃত শ্বশুর
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: সালিশি সভাতে না আসায় বাড়িতে এসে মেয়ের শ্বশুরকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে চাকুলিয়া থানার তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গণ্ডাল গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম
শেষ আপডেট: 14 September 2020 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: সালিশি সভাতে না আসায় বাড়িতে এসে মেয়ের শ্বশুরকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বাড়ির আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে চাকুলিয়া থানার তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গণ্ডাল গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম জালিমুদ্দিন, বয়স ৫৮ বছর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে মহঃ জালিমুদ্দিনের ছেলে জিকরে আলমের সাথে ওই গ্রামেরই মুজামিল হকের মেয়ে রুকেজা বেগমের বিয়ে হয়। ছেলের বাড়ির অভিযোগ ছিল মেয়ের বাড়ি থেকে একরকম জোর করে ওই বিয়ে দেওয়া হয়। ছেলের বাড়ির লোকজনের ওই বিয়েতে মত ছিলো না বলেও অভিযোগ।
বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে চলে যান জিকরে আলম। নববধূ রুকেজা শ্বশুরবাড়িতেই ছিল। গত শুক্রবার ১১ই সেপ্টেম্বর আচমকা সে বাপের বাড়ি ফিরে যায়। নিজের বাড়িতে ফিরে শনিবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তার উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জানায় রুকেজা। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই গ্রামের মাতব্বরদের নিয়ে সালিশি সভা ডাকেন মেয়ের বাড়ির লোকজন।
তরিয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অবশ্য এই সালিশি সভাতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে আগে থেকেই জানিয়ে দেন। পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত না থাকার কারণে ছেলের বাড়ির লোকজনও সালিশি সভায় যেতে অস্বীকার করেন। এরপরেই শনিবার ১২ই সেপ্টেম্বর রাতে মেয়ের বাড়ির লোকজন সহ গ্রামের মাতব্বররা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছেলের বাড়িতে হামলা করে বলে অভিযোগ৷
এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন ছেলের বাবা মহঃ জালিমুদ্দিন। তাঁকে ১২ তারিখ রাত্রেই চাকুলিয়া ব্লক স্বাস্থ্য দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে জানান ব্লক হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আহতদের উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানান ছেলের বাড়ির লোকজন। আচমকা চড়াও হয়ে বাড়ির লোকজনকে মারধর করার অভিযোগ জানানো হয় মেয়ের বাড়ির বিরুদ্ধে। মারধরের পাশাপাশি বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালানোরও অভিযোগ জানান মৃত ব্যক্তির পরিবার।
খবর পেয়েই সময় নষ্ট না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাকুলিয়া থানার পুলিশ। এদিন পুলিশের তরফে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হননি। এই ঘটনার পর মেয়ের বাড়ির লোক ও আত্মীয়রা গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানা যায় পুলিশসূত্রে। রবিবার ১৩ তারিখ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।