
শেষ আপডেট: 14 June 2023 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র ফাইজান আহমেদের মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে এবার সিট গঠন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কে জয়রামনের নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্তকারী দল ১৪ জুলাই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে আদালতে।
বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে শুনানি ছিল এই মামলার। বিচারপতি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ফাইজানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করতে সিট গঠন করে দিতে পারেন। এদিন সেটাই সত্যিই হল।
গত বছর অক্টোবর মাসে হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল ফাইজান আহমেদের দেহ। আত্মহত্যা না খুন, সেই নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ ফাইজানের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে দাবি করে। কিন্তু ছাত্রের পরিবারের দাবি ছিল, খুন করা হয়েছে তাদের ছেলেকে।
তারপরই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা। হাইকোর্টের নির্দেশেই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয় ফাইজানের দেহের। অসমের ডিব্রুগড় থেকে দেহ তুলে এনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বিশেষজ্ঞরা ময়নাতদন্ত করেন। সেই রিপোর্ট জমা পড়ে আদালতে।
সূত্রের খবর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুনের ইঙ্গিত রয়েছে। ফাইজানের শরীরে যে ক্ষতচিহ্ন গুলি রয়েছে, সেগুলিই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এদিনের শুনানিতে রাজ্যের তরফের আইনজীবী আদালতে নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের আর্জি জানান। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হোক।
যদিও সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি জানান, নতুন বোর্ড গঠনের কোনও প্রয়োজন মনে করছে না আদালত। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে খুনের ইঙ্গিত আছে। এরপরে যা করার সেটা নতুন তদন্ত দলের থেকে প্রস্তাব আসবে হবে।
আদালত এদিন কে জয়রামণের নেতৃত্বে সিট গঠন করে দিল। সেই তদন্তকারী দলে কলকাতা পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ও সিআইডির অফিসার থাকবেন। আদালত আরও জানিয়েছে, এই দল তাদের পছন্দ মতো অফিসার নিয়োগ করে নেবে। প্রয়োজনে নারকো অ্যানালিসিস বা ট্রুথ সিরাম টেস্ট করতে পারবে ওই তদন্তকারী দল।
এদিন আদালতে ফাইজানের পরিবার আবেদন করে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, প্রথম ময়নাতদন্ত কারী অফিসারের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃত নথি লোপাটের মতো অভিযোগে মামলা দায়ের করার। যদিও বিচারপতি মান্থা জানিয়েছেন, এখনই এই ইস্যুতে আদালত ঢুকতে নারাজ। ওটা নতুন তদন্তকারী সংস্থা দেখবে।
এছাড়াও পরিবারের অভিযোগ, ২১ দিন হয়ে গেল ফাইজানের দেহ অসমে পাঠানো হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত জানায়, যত দ্রুত সম্ভব ফাইজানের দেহ অসমে পাঠাতে হবে। আগামী ১২ জুলাই প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট জমা দেবে সিট।
জেলে কুন্তল কী করেন, কারা যান দেখা করতে, সিসিটিভি ফুটেজ চাইল আদালত