দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও মহিলা পাশ দিয়ে গেলেই দোকানের ভেতর থেকে অশালীন মন্তব্যের তীর ছুটে আসত। সেই নিয়ে প্রতিবাদ করায় রড দিয়ে মারা হল এক স্থানীয় যুবককে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষ্ণুপুরের প্রসিদ্ধ তাঁতী পাড়ায় সম্প্রতি এমন হিংসার খবরে এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তাঁতীপাড়ায় বাড়ি কিনে সদ্য গ্রিলের দোকান খুলেছিল অর্জুন দাস নামে এক যুবক। অভিযোগ, দোকানের ভেতর থেকে প্রতিনিয়ত পাড়ার মহিলাদের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য করত অর্জুন। যার প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন স্থানীয় যুবক গোপাল চন্দ্র দাস ওরফে বাপ্পা। জানা যায়, তিনি পাড়া কমিটির সম্পাদক। ভাল ছেলে হিসেবে পাড়ায় তাঁর সুনাম রয়েছে। সদ্য দোকান খুলে বসা অর্জুনের আচরণের প্রতিবাদের জেরেই প্রাণ সংশয় হতে চলেছিল বাপ্পার।
তাঁর পরিবারের সূত্রে খবর, অর্জুন দাস ও তার পরিবারের লোকজন দল বেঁধে আক্রমণ করে বাপ্পাকে। ধারালো ছুরি দিয়ে কোপ মারে হাতে। মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে।
ঘটনায় গুরুতর জখম হন বাপ্পা। এলাকার মানুষ তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে পাঠান। তাতেই প্রাণ রক্ষা হয়। আপাতত সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাপ্পা।
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষীপ্রিয়া বাউরী জানান, "বাপ্পা দা পাড়ায় ভাল ছেলে হিসেবেই পরিচিত। পাড়ার মহিলাদের কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করাতেই অভিযুক্ত অর্জুন দাস ও তাদের পরিবারের লোকজন আক্রমণ করে।"
বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে বাপ্পা কোনমতে বলেন, "আমি পাড়া কমিটির সম্পাদক। পাড়ার মহিলারা তাঁদের সমস্যার কথা জানালে আমি অর্জুনের দোকানে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানাই।" সেই আক্রোশেই বাপ্পার ওপর আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন।
বাপ্পার পরিবারের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় অর্জুন দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অর্জুন দাস সহ তার ভাই করণ দাস ও বাবা অশোক দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকলকেই আপাতত পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।