সার বেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে হাতির পাল, দেখুন ভিডিও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতির আতঙ্ক বলবেন নাকি হাতি দেখার সৌভাগ্য? সার বেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে হাতির পাল। পর্যটকদের চোখে এমন দৃশ্য পড়লে তাঁরা যে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়বেন, মোবাইল ক্যামেরায় সেই দৃশ্য বন্দি করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার সকালে
শেষ আপডেট: 9 January 2020 08:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতির আতঙ্ক বলবেন নাকি হাতি দেখার সৌভাগ্য? সার বেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে হাতির পাল। পর্যটকদের চোখে এমন দৃশ্য পড়লে তাঁরা যে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়বেন, মোবাইল ক্যামেরায় সেই দৃশ্য বন্দি করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গলমহলের মানুষ দেখলেন গড়বেতার ধাদিকা হয়ে বাকাদহ রেঞ্জের আমদহ বিটের অন্তর্গত আস্তাশোলের জঙ্গলে ঢুকে গেল ৩০ থেকে ৩৫টি হাতির একটি পাল।
কয়েক দিন ধরেই জঙ্গলমহলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাতির পাল। তাই হাতির কথা শুনে এলাকার লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েন হাতি তাড়াতে। গ্রামবাসীরা জড়ো হন রাজ্য সড়কের উপরে।
দেখুন হাতির পালের সেই ছবি:
https://www.youtube.com/watch?v=g0gzf6ANWOo
ইতিমধ্যেই ওই এলাকার কাছাকাছি জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে বন দফতর মাইকিং শুরু করেছে। সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলে হাতির সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গেছে তাই বনের মধ্যে খাবার অকুলান হচ্ছে। বন ছেড়ে হাতিদের গ্রামে ঢুকে আসার এটা অন্যতম কারণ। ধান পাকার সময় জঙ্গলমহলের গ্রামে হাতির হানা প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। তাই অনেক সময় গ্রামের লোকজন মশাল হাতে রাত জেগে হাতি তাড়াতে ব্যস্ত থাকেন। সারারাত বিনিদ্র কাটাতে হয় অনেক সময়ই। ধানপাকার সময় সেখানে পুরো চড়ইভাতির মেজাজে হাজির হয় হাতির পাল। তাদের তখন পৌষমাস, আর কৃষকদের সর্বনাশ।
এই এলাকাগুলিতে আদিবাসীরা সংখ্যাগুরু। তাঁদের বড় অংশের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। যাঁরা সামান্য কিছু জমিতে চাষ করেন তাদের পরিশ্রমের ফসল খেয়ে যায় হাতির পাল। তাই হাতি এখানে আতঙ্কের নামান্তর।
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে হুলা পার্টি তৈরি করেছে বন দফতর। মূলত তাঁরাই মশাল জ্বেলে হাতি তাড়ান। দিনের বেলায় হাতিকে সরানো খুব মুশকিল, রাতেই তারা বেশি চলাফেরা করে। তাই হুলাপার্টিও রাতে মশাল জ্বেলে ও বাজনা বাজিয়ে হাতি তাড়ায়।
হাতির হামলায় জঙ্গলমহলে মানুষের মৃত্যুও হয়। আবার জঙ্গলমহলের ভিতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুও বিরল ঘটনা নয়। কয়েক দিন আগেই একটি হাতির পাল লাইন পার হচ্ছিল। মালগাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি হস্তিশাবকের। তার জেরে ঘণ্টা তিনেক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলায় ফসল পাকার সময় হাতির আনাগোনা বাড়ে।
শুধু হাতি নয়, জঙ্গলমহলে বাঘও দেখা গেছে। ২০১৭ সালে বাঘ দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়, যদিও তাতে গুরুত্ব দেয়নি বন দফতর। পরে শিকার উৎসবের সময় সেই বাঘটিকে পিটিয়ে মারা হয়। এবছরের গোড়াতেও ফের পশুর পায়ের ছাপ দেখা গেছে সরষের ক্ষেতে। পায়ের ছাপটি বাঘের বলে মনে করা হচ্ছে। বাঘ ধরার খাঁচা আনা হয়েছে, ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি।