দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: কয়েকদিন আগেই হাতির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ক্ষেত জমি পরিদর্শন করেছিলেন সরকারি আধিকারিকরা। হাতির আক্রমণ নিয়ে স্থানীয়রা তাঁদের অসুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু জঙ্গল কমে যাওয়ায় হাতিরা ফের আক্রমণ চালাচ্ছে লোকালয়ে। এবার বাঁকুড়ার তালড্যাংড়ার হাড়মাসড়া এলাকায় হানা দিল দলছুট দাঁতাল। বৃহস্পতিবার সকালে ওই দাঁতালকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দলমা জঙ্গল থেকেই এই দাঁতালটি এসছে বলে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এখনও সে লোকালয়ে ঘোরা ফেরা করছে। তাই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হাতিটিকে সকালে গ্রামে ঘোরা-ফেরা করতে দেখে গ্রামবাসীরা বনবিভাগে খবর দেয়। তবে বনকর্মীদের দেখা মেলেনি। এদিকে তাঁদের আরও দাবি, বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের পাশাপাশি দক্ষিণ বনবিভাগের সারেঙ্গা, রানীবাঁধে এলাকায় ফি বছরে হাতির দলের দেখা মেলে। কিন্তু তালড্যাংড়ার এই এলাকায় প্রথম।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ''হাতিটি লোকালয়ে ঘুরে বেড়ালেও এখনও গ্রামে কোনও তাণ্ডব চালায়নি। এখন দলছুট দাঁতালটি শিলাবতী নদী পেরিয়ে খাতড়ার দিকে যাচ্ছে।'' তবে বনদফতরের আধিকারিকদের মতে, '' জঙ্গলে খাদ্যসংকটের কারণেই লোকালয়ে হাতি ঢুকে পড়েছে। এখনও গ্রামে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই তাঁদের কাছে। ''
তবে গ্রামবাসীদের দাবি, ''সকালেই বনদফতরে হাতি দেখা যাওয়ার খবর দেওয়া হয়ে ছিল। কিন্তু বনদফতর তাতে কোনও হেলদোল দেখায়ানি। বনদফতরের এমন গাফিলতির কারণে অনেক সময় হাতি গ্রামের ক্ষয়ক্ষতি করে। সরকারিভাবে হাতির আক্রমণের ক্ষেত্রে মৃতের পরিবারই একমাত্র ক্ষতিপূরণ পায়। এখনও হাতিটি গ্রামের থেকে অন্যত্র সরতে থাকছে। তবে ক্ষেপে গিয়ে যদি তাণ্ডব চালায় তার দায় কে নেবে? সময় থাকতে বনদফতর ব্যবস্থা নিলে অল্প ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হতে হয়। তাতে মানুষের ততটা অর্থিক ক্ষতি হয়না।''