দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে তাঁর সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে বাবাকে নিয়ে ঢালাও প্রশংসা। তারপর দলের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করার ঘোষণা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশুকে দল থেকে সাসপেন্ড করার পর বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক বললেন, “যাক বাঁচা গেল! এ বার খোলা আকাশে নিঃশ্বাস নিতে পারব।”
রাজনৈতিক শিবিরের মতে, এই পুরোটাই চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলছে। সবটাই আগে থেকে ঠিক করা। ভোটের ফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শুভ্রাংশু। জানতেন ফল বেরোলেই এ সব বললে দল ব্যবস্থা নেবে। আর তা করার পরই প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন মুকুল-পুত্র।
ভোটের আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিলেন, ব্যারাকপুর লোকসভার মধ্যে বীজপুর সবচেয়ে বেশি লিড দেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে। আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছিলেন, “দু’লক্ষের বেশি ভোটে জিতবেন দীনেশদা!” কিন্তু ভোটের ফলে উল্টে গেছে সব। শুক্রবার কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বীজপুরের বিধায়ক তথা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায় হার স্বীকার করে নেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, “আমার বাবা একা হাতে গোটা তৃণমূলটাকে তছনছ করে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি ভুলে গেছিলাম বীজপুরটা আমার একার নয়। আমি যেমন এখানকার ভূমিপুত্র, আমার বাবা মুকুল রায়ও এখানকার ভূমিপুত্র। বাবার কাছে হেরে গেছি। মানুষ বেছে নিয়েছে বাবাকে।”
ব্যারাকপুর কেন্দ্রে জনসভা করতে গিয়ে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছে করলে রোজ লক্ষ লক্ষ মুকুল রায় তৈরি করতে পারেন।” এ দিন অভিষেকের সেই কথাকেই কটাক্ষ করে মুকুল-পুত্র বলেন, “আমি আমার বাবার জন্য গর্বিত। কেউ কেউ বলেছিল, লক্ষ লক্ষ মুকুল রায় তৈরি করবে। কিন্তু যে লোকটা একা হাতে তৃণমূলকে দাঁড় করিয়েছিল, সেই লোকটা একা হাতে গোটা তৃণমূলটাকে তছনছ করে দিল।” হাসি হাসি মুখে শুভ্রাংশু যখন এ কথা বলছেন, তখন পিছনে দাঁড়ানো অনুগামীরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘মুকুল রায় জিন্দাবাদ।’
শুভ্রাংশুর সাংবাদিক সম্মেলনের ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন পার্থ। জানিয়ে দেন শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। মুকুল রায় শুনে বলেন, “এটা ওদের দলের ব্যাপার।” কিন্তু শুভ্রাংশু বুঝিয়ে দিলেন, তিনি যেটা চাইছিলেন, সেটাই যেন করে দিল দল। সামনে এখন খোলা আকাশ।