
শেষ আপডেট: 19 September 2023 03:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী নেশারু। নস্যি ছাড়া তাঁর চলত না। এদিকে নস্যিতে বেজায় আপত্তি ছিল স্ত্রীর। স্বামীকে নেশা ছাড়ানো নিয়ে কম ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। শেষে একদিন স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন অভিমানী স্ত্রী। সেলাইয়ের কাজ করে কোনওরকমে পেট চালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সঙ্গে নস্যির নেশায় বুঁদ স্বামীর (elderly couple) কাছে খোরপোশের আবেদন করে মামলা ঠুকেছিলেন তিনি। এদিকে স্ত্রী চলে যাওয়ায় স্বামীর তখন নাজেহাল দশা। কাকুতি মিনতি করে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। তাতেও অভিমানের বরফ না গলায় শেষে স্ত্রীর হাত ধরে স্বামী কথা দেন, "তোমার জন্য আর জীবনে নস্যি নেব না।" তাতেই কাজ হয় ম্যাজিকের মতো।
ঘটনা কলকাতার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলিপুর আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা ঠুকেছিলেন ৬১ বছরর তপতী সামন্ত (elderly couple)। বিচারককে জানিয়েছিলেন, স্বামী সমীর সামন্তের নস্যির নেশায় বিরক্ত হয়ে তিনি বিচ্ছেদ চাইছেন। কিন্তু স্ত্রীকে কিছুতেই ছাড়তে রাজি হননি ৭১ বছরের সমীরবাবু। শেষে বৃদ্ধ নস্যি ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলে মন গলে বৃদ্ধার। মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রবীণ দম্পতি। বেলাশেষে ঘরে ফিরে আসেন স্ত্রী।
আরও পড়ুন: মহিলা সংরক্ষণের প্রথম বীজ পুঁতেছিলেন রাজীব, সার জল দিয়েছিলেন নরসিংহ রাও
গত প্রায় দু’বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার কালুয়াখালি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন তপতীদেবী। স্ত্রীকে ছাড়া খুঁচিতলা গ্রামে নিজের বাড়িতে তীব্র অবসাদে ভুগছিলেন বৃদ্ধ সমীরবাবু। জীবন সায়াহ্নে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ মানতে পারছিলেন না তিনি। ঘরে ফিরে আসার জন্য প্রায় রোজই স্ত্রীকে কাতর আকুতি জানাতেন। কিন্তু বৃদ্ধা তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। হয় নস্যি, না হলে সংসার। শেষমেশ অবশ্য নস্যিকেই ত্যাগ করেন বৃদ্ধ স্বামী। স্ত্রীর হাত ধরে কথা দেন, যা হবার তা হয়ে গিয়েছে। এ জীবনে আর কোনওদিন তিনি নস্যি নেবেন না। আর বৃদ্ধকে ফেরাতে পারেননি তপতীদেবী। ফিরে আসেন। আদালত সূত্রে খবর, দীর্ঘ শুনানির শেষে আইনি ঝামেলা মিটিয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এখন ফের সুখে ঘর করছেন।